স্কোপিয়ে, ২১ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে উত্তর মেসিডোনিয়ার রাষ্ট্রপতি গোরদানা সিলিয়ানোভস্কা-দাভকোভা বলেছেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও স্থায়ী সভ্যতা এবং আজকের দিনে বৈশ্বিক এজেন্ডা নির্ধারণে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক, খোলামেলা এবং ভবিষ্যতমুখী। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও উত্তর মেসিডোনিয়ার সম্পর্কের আরও অনেক সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়িত হওয়া বাকি রয়েছে।
দাভকোভা বলেন, “ভারত সম্পর্কে বলতে গেলে আমরা শুধু একটি দেশের কথা বলছি না, বরং মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এবং দীর্ঘস্থায়ী সভ্যতার কথা বলছি।”
ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর, তাজমহলের অনন্য সৌন্দর্য থেকে শুরু করে প্রাচীন মন্দির—ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমগ্র মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার দর্শন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অভিধানই বদলে দিয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি, পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গীত এবং সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ভারতকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। ভারত নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে।”
ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতিগুলির একটি এবং বৈশ্বিক এজেন্ডা নির্ধারণে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।”
দুই রাষ্ট্রনেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। সরকার, মন্ত্রী, সংসদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ, সুসংগঠিত এবং উচ্চাভিলাষী করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্যের গল্প হিসেবে উল্লেখ করে দাভকোভা বলেন, “এখন সময় এসেছে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কও রাজনৈতিক সম্পর্কের সমান শক্তিশালী হয়ে ওঠার। মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যেই ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি এবং উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্যোগের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি, ভারতীয় অংশীদারদের জন্য উত্তর মেসিডোনিয়ারও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।”
– আইএএনএস



















