নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক, দ্রুত, সহজ ও আরও স্বচ্ছ করে তুলতেই পুরনো ঔপনিবেশিক আইনগুলির পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ), ২০২৩ কার্যকর করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার বলেন, নতুন আইনগুলির ফলে মামলার দ্রুত ও ন্যায্য নিষ্পত্তি নিশ্চিত হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন আইন অনুযায়ী নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর দুই মাসের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া মামলার শুনানিতে অযথা বিলম্ব রোধে সর্বাধিক দুইবার মুলতবির সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
বিচারব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে ই-সাক্ষ্য, ই-সমন এবং ন্যায়-শ্রুতি (ভিডিও কনফারেন্সিং)-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ই-সাক্ষ্য ডিজিটাল প্রমাণ আইনসম্মত, বৈজ্ঞানিক ও বিকৃতিহীনভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ইলেকট্রনিকভাবে আদালতে জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ই-সমন ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন দ্রুত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং সহজে অনুসরণযোগ্য পদ্ধতিতে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে ন্যায়-শ্রুতি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযুক্ত, সাক্ষী, পুলিশ, সরকারি কৌঁসুলি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, বন্দি-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হতে পারছেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে আইন কমিশন এবং বিভিন্ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সংশোধনগুলি আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটিও ২০০৫, ২০০৬ এবং ২০১০ সালের প্রতিবেদনে পৃথক পৃথক সংশোধনের বদলে সামগ্রিকভাবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছিল।
নতুন আইনগুলিতে প্রাথমিক তদন্ত, অতিরিক্ত তদন্ত, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তকে নথি সরবরাহ, রায় ঘোষণা এবং প্রাণভিক্ষার আবেদন দাখিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই তিনটি আইন ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভারতীয় গেজেটে প্রকাশিত হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধিকাংশ ধারা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ঔপনিবেশিক যুগের পুরনো আইনগুলির পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক এবং সময়সীমাবদ্ধ বিচারব্যবস্থা চালু হয়েছে।
_______



















