ভোপাল, ২১ জুলাই (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে মঙ্গলবার ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল, ২০২৬ নিয়ে তুমুল বাগ্যুদ্ধ ও একাধিকবার অধিবেশন স্থগিতের ঘটনা ঘটল। কংগ্রেস বিধায়করা বিলটি সিলেক্ট কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানান এবং একই সঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে সরব হন।
মন্ত্রী গৌতম তেতওয়াল মধ্যপ্রদেশ ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পেশ করেন। এরপর বিজেপি বিধায়ক সীতারাম শর্মা বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করলে কংগ্রেস সদস্যরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং ইউসিসি-র পাশাপাশি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়েও আলোচনা করার দাবি তোলেন।
এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুলে বলেন, যিনি বক্তব্য রাখছেন, কেবল তাঁর বক্তব্যই কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত হওয়া উচিত।
সীতা শরণ শর্মা কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, সংবিধান রক্ষার দাবি করলেও তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না। এরপর বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা ‘বিজেপি আদিবাসীদের সম্মানের পাশে রয়েছে’ বলে স্লোগান দিলে বিরোধী বেঞ্চ থেকেও পাল্টা স্লোগান ওঠে।
বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিংহার দাবি, ইউসিসি-র চেয়ে ওবিসিদের ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার অনগ্রসর শ্রেণির স্বার্থকে উপেক্ষা করছে।
এর জবাবে রামেশ্বর শর্মা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস মুসলিম তোষণের রাজনীতি করছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার নরেন্দ্র সিং তোমর সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ইউসিসি-কে একটি ঐতিহাসিক বিল বলে উল্লেখ করেন।
কংগ্রেস বিধায়ক ভাঁওয়ার সিং শেখাওয়াত বলেন, ইউসিসি প্রথমে দিল্লিতে কার্যকর করে লোকসভায় পাশ করানো উচিত। অন্যদিকে, কংগ্রেস সদস্যরা ‘ওবিসি-বিরোধী সরকার’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
মন্ত্রী রাকেশ সিং বিরোধীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা আসলে কোন কোন বিষয়ে আপত্তি করছেন, তা স্পষ্ট করে বলা উচিত। পরে বিজেপি বিধায়ক জগদীশ দেবদা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
মন্ত্রী প্রহ্লাদ পটেল বলেন, আদিবাসীদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থেই ইউসিসি বিলে তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কি আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়?
কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বিলে সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়ে বহুবিবাহ এবং বৈবাহিক বিরোধকে ফৌজদারি আইনের আওতায় আনার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় আদিবাসী ও তফসিলি জাতির মতো মুসলিমদেরও ছাড় দেওয়ার দাবি করেন।
এর জবাবে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মতামত নিয়ে এই বিল তৈরি হয়েছে এবং এটি ‘এক দেশ, এক আইন’-এর ধারণাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে আরিফ মাসুদের অভিযোগ, জনমত সংগ্রহ যথেষ্ট নয় এবং বিলটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই আনা হয়েছে।
উমঙ্গ সিংহার আরও অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী দুই দিন আগে বিলের কপি সদস্যদের দেওয়া হলেও এই ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
ক্রমবর্ধমান হট্টগোলের জেরে স্পিকার নরেন্দ্র সিং তোমর প্রথমে ১৫ মিনিট এবং পরে আরও ১০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। ইউসিসি বিল ও ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যুতে শাসক বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেই বিল নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে।
– আইএএনএস



















