বেঙ্গালুরু, ৫ জুন (আইএএনএস): কর্নাটকের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী কে. এইচ. মুনিয়াপ্পা দফতর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা থেকে সরে এসেছেন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
শুক্রবার মুনিয়াপ্পা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. বেণুগোপাল এবং কর্নাটক বিষয়ক এআইসিসি পর্যবেক্ষক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি নিজের অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। সূত্রের খবর, আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে।
বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুনিয়াপ্পা বলেন, “আমি খুশি।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত তিনি আর বহাল রাখছেন না।
কর্নাটক কংগ্রেসে মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন নিয়ে চলা অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের রাজ্যসভা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উপলক্ষে রাহুল গান্ধীর বেঙ্গালুরু সফরের সময় উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার অসন্তুষ্ট মন্ত্রীদের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সূত্রের দাবি, জলসম্পদ মন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং মুনিয়াপ্পার অসন্তোষ দু’টিই রাহুল গান্ধীর নজরে আনা হয়েছিল।
দলীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে মুনিয়াপ্পা আপাতত তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, রামালিঙ্গা রেড্ডি এখনও ক্ষুব্ধ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে রাজি নন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে মুনিয়াপ্পা খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতর পাওয়ায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে এই মন্ত্রকের দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন না এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাঁর প্রতি হওয়া ‘অবিচার’ সংশোধনের দাবি জানান।
তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। যতদিন না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততদিন আমি আমাকে দেওয়া মন্ত্রকের দায়িত্ব নেব না, বলেছিলেন তিনি।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুনিয়াপ্পা উল্লেখ করেন যে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, দফতর বণ্টনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রবীণ নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা করা দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব।
এছাড়াও তিনি বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়্গের উচিত ছিল সব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে চলা। তিনি একজন মায়ের মতো অবস্থানে রয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে সমাধান করবেন, মন্তব্য করেন মুনিয়াপ্পা।
উল্লেখ্য, দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত মুনিয়াপ্পা কর্নাটক কংগ্রেসের অন্যতম প্রবীণ নেতা। তিনি সাতবারের সাংসদ এবং বর্তমানে দেবনহল্লি কেন্দ্রের বিধায়ক। অতীতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কন্যা এম. রূপকলা শশিধর কেজিএফ কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক।



















