চেন্নাই, ২০ জুলাই (আইএএনএস): অস্বাভাবিকভাবে বেশি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় বিলিং ব্যবস্থায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিল তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএনপিডিসিএল)। রাজ্যজুড়ে বিলিং ত্রুটি চিহ্নিত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভুল বিল ইস্যু হলে দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিমাসিক বিদ্যুৎ বিলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সময়মতো মিটার রিডিং না হওয়া এবং রাজ্য সরকারের বিনামূল্যের বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে ভোক্তাদের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার সদর দফতর থেকে সমস্ত সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় বিলিং যাচাই আরও কঠোর করা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন বাড়ানো এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিএনপিডিসিএলের দাবি, একাধিক অভিযোগ ও পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে ভুল মিটার রিডিং, বিকল মিটার এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে গৃহস্থ গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত বিল পাঠানো হচ্ছে। সংস্থার অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক বিলিংয়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের ভুল শুধু গ্রাহকদের আস্থাই নষ্ট করছে না, বিদ্যুৎ সংস্থার আর্থিক অবস্থার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরিদর্শনে আরও উঠে এসেছে যে রাজস্ব সুপারভাইজার, অ্যাসেসমেন্ট সুপারভাইজার, সহকারী অ্যাকাউন্টস অফিসার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিকল মিটার শনাক্ত না হওয়ায় গ্রাহকদের অভিযোগ ওঠার পরেই সমস্যার কথা সামনে আসছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত বিদ্যুৎ বণ্টন সার্কেলে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন এবং বৃহৎ পরিসরে বিলিং যাচাই অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিটার রিডিং যথাযথভাবে যাচাই, পরিদর্শনকারী আধিকারিকদের কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং গ্রাহকবান্ধব ও স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সার্কেল, ডিভিশন ও সাব-ডিভিশন স্তরে দায়িত্ব নির্ধারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, সমস্যার মূল কারণ কর্মীসংকট। সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন অব তামিলনাড়ু ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ-এর সভাপতি এস. কান্ননের অভিযোগ, ৭,৫৬৫টি অ্যাসেসর পদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ৩,৯৬১টি ইনস্পেক্টর অব অ্যাসেসমেন্ট পদের প্রায় ৪২ শতাংশ এখনও শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিদর্শকদের মিটার রিডিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে এবং রাজস্ব সুপারভাইজারদের বিল আদায়ের কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা মিটার রিডারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ফলেও বিলিংয়ে ভুল বাড়ছে বলে দাবি তাঁর।
টিএনপিডিসিএলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মিটার রিডিংয়ের কাজে ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের ব্যবহার করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















