আগরতলা, ৫ জুন: ত্রিপুরায় অতিরিক্ত ১১৯ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্মার্ট বর্ডার ফেন্সিংয়ের পাইলট প্রকল্প আগামী বছর চালু করা হবে। আজ ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লঙ্কামুড়া বিএসএফ সীমা চৌকিতে আয়োজিত প্রহরী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাউ দাবি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
এদিন তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ কোনও বড় যুদ্ধ বা সংঘাতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হলেও মাদক পাচার, মানব পাচার, গবাদি পশু পাচার এবং জাল নোটের কারবার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা এবং সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তিনি জানান, স্মার্ট ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তে সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, দেশবাসী রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে কারণ আপনারা রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বিএসএফ জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের নিষ্ঠা, সাহস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
ত্রিপুরা সীমান্তের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে সীমান্তপথে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরায় অতিরিক্ত ১১৯ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্মার্ট বর্ডার ফেন্সিংয়ের পাইলট প্রকল্প আগামী বছর চালু করা হবে।
প্রহরী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা, বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার, ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি অলোক কুমার চক্রবর্তী, আইজি প্রিন্সি রানি সহ বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা। এদিন আগরতলার কুঞ্জবনস্থিত ঐতিহ্যবাহী পুরনো রাজভবন প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’ হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এবং তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের উপস্থিতিতে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে টাটা হোটেলস গোষ্ঠীর সিইও পুনীত ছাটওয়াল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। পরে প্রস্তাবিত হোটেলের নকশা ও প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্যচিত্র পরিদর্শন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক-বিধায়িকা, মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
।।।।।।
























