নয়াদিল্লি, ১৫ এপ্রিল (আইএএনএস): পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতির চিরন্তন ঐশ্বর্য ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বার্তায় তিনি লেখেন, “শুভ নববর্ষ! পয়লা বৈশাখের এই বিশেষ উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আগামী বছর সকলের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক। সুখ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সর্বদা বজায় থাকুক। সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির চিরন্তন ঐশ্বর্য উদযাপনেরও একটি বিশেষ মুহূর্ত, যা ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তুলেছে।”
পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ বাঙালি সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা বাংলা নববর্ষের সূচনা নির্দেশ করে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড এবং অসমে এই উৎসব বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। চলতি বছর ১৫ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সালের সূচনা হয়েছে।
এই দিনটি নতুন সূচনা, সমৃদ্ধি এবং আশাবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বহু মানুষ এই দিন নতুন ব্যবসা শুরু করেন, বাড়ি বা গাড়ি কেনেন এবং বিভিন্ন শুভ কাজের সূচনা করেন।
পয়লা বৈশাখের উদযাপন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ভরপুর। এদিন মহিলারা শাড়ি ও পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়, বিশেষ খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
গ্রামাঞ্চলে মেলা বসে, যেখানে মানুষ আনন্দ উপভোগ করেন। শোভাযাত্রা, নৃত্য ও লোকসংগীতের মাধ্যমে উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এছাড়া ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভগবান গণেশ ও দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে নতুন হিসাবপত্র (হালখাতা) শুরু করেন।
এইভাবে পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতিতে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যা ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে।



















