পাটনা, ১৫ এপ্রিল (আইএএনএস): বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হল। সম্রাট চৌধুরী রাজ্যের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, যা প্রথমবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতিষ্ঠা নির্দেশ করে।
লোক ভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান।
এরপর জেডি(ইউ)-এর শীর্ষ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ নেওয়ার আগে সম্রাট চৌধুরী রাজবংশী নগরের হনুমান মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন, যা তাঁর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যাওয়ার জন্য পদত্যাগ করায় এই পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়।
সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৯ সালে তিনি বিহারের কৃষিমন্ত্রী হন। ২০০০ ও ২০১০ সালে পারবত্তা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ২০১০ সালে তিনি বিহার বিধানসভায় বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সাল থেকে তিনি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন। ২০১৯ সালে নিত্যানন্দ রায়-এর নেতৃত্বে তাঁকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি করা হয়।
নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মহাগঠবন্ধন সরকার গঠন করলে, সম্রাট চৌধুরী প্রতীকীভাবে ‘মুরাইঠা’ খুলবেন না বলে শপথ নেন, যতক্ষণ না নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন—এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২০২৩ সালে তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি হন এবং পরে এনডিএ জোটে নীতীশ কুমারের প্রত্যাবর্তনের পর উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব পান।
অন্যদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী সমस्तीপুরের রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় কর্মরত ছিলেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দলীয় মুখপাত্র ও রাজ্য সভাপতি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
আরেক উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব কোসি অঞ্চলের রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। বিশেষত সুপৌল, সাহারসা ও মধেপুরা জেলায় বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
এই রাজনৈতিক পালাবদল বিহারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং অভিজ্ঞ দুই উপমুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় নতুন সরকার উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখা এবং জনমানসের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।



















