News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • খার্গের চিঠির জবাবে সর্বদল বৈঠকের দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো’ করছে সরকার: অভিযোগ
Image

খার্গের চিঠির জবাবে সর্বদল বৈঠকের দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো’ করছে সরকার: অভিযোগ

নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল (আইএএনএস): কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে লেখা চিঠিতে মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল বাস্তবায়নে কেন্দ্রের ‘তাড়াহুড়ো’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার লক্ষ্যেই এই তৎপরতা।

আগামী সপ্তাহে মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল নিয়ে আলোচনা ও পাশ করানোর জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব দলের লোকসভা ও রাজ্যসভার ফ্লোর লিডারদের কাছে চিঠি লিখে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সর্বসম্মতভাবে পাশ করানোর জন্য সমর্থন চেয়েছেন, যাতে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সেই চিঠির জবাবে খার্গে লিখেছেন, ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে আলোচনার কথা তিনি সদ্য জেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই এই আইন সর্বসম্মতভাবে সংসদে পাশ হয়েছিল।

খার্গের দাবি, তখনই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে সরকার তা কার্যকর করেনি, যদিও এখন বলা হচ্ছে যে দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য ছিল।

এই প্রেক্ষিতে তিনি ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

খার্গে বলেন, ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ছাড়া এই ঐতিহাসিক আইন নিয়ে কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে—এই দাবি বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বিরোধী দলগুলি ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলা বিধানসভা নির্বাচনের পর সর্বদল বৈঠক ডাকার জন্য বারবার আবেদন জানিয়েছে।

চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান নির্বাচনের মধ্যেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা প্রমাণ করে যে সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য বিল বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করছে।

অতীতের উদাহরণ টেনে খার্গে বলেন, নোটবন্দি, জিএসটি, জনগণনা বা আর্থিক কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা আস্থা জাগায় না।

তিনি আরও জানান, এই সাংবিধানিক সংশোধন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ের উপর প্রভাব ফেলবে, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দল ও রাজ্যের মতামত শোনা জরুরি।

খার্গে প্রস্তাব দেন, যদি এই বিশেষ অধিবেশন সত্যিই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে ২৯ এপ্রিলের পর সর্বদল বৈঠক ডেকে ডিলিমিটেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, এই সাংবিধানিক সংশোধনী পাশ করাতে শাসক দলকে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, যার জন্য বিরোধী দলগুলির সমর্থন অপরিহার্য।

প্রস্তাবিত আইনে ২০২৭ সালের জনগণনার বদলে ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এটি চালু করা সম্ভব হয়।

Releated Posts

বিশ্বনেতাদের স্বাগত ভারতীয় স্বাগত, একসঙ্গে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ব: ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা উচ্চপর্যায়ের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

বিশ্বের নানা ধাক্কা সামলাতে ব্রিকসকে বাণিজ্য বাড়িয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে হবে: জয়শঙ্কর

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রিকস দেশগুলিকে পারস্পরিক বাণিজ্য আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

৯/১১ হামলার ২৫ বছর, নিহতদের স্মরণ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত মোদির

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

৫ দিনের কর্মসপ্তাহ ও বকেয়া বেতন-সহ একাধিক দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘট

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা এবং বকেয়া বেতন-সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘটের…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026
Scroll to Top