কলকাতা, ৪ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা এবং রাজ্যে অরাজকতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা ও খড়গপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ।শনিবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-এর প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “মানুষ দেখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও প্রশাসন কতদূর গিয়েছে। তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছে, প্রধানমন্ত্রীর সামনে কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনারকেও কালো পতাকা। রাষ্ট্রপতিকে উপেক্ষা ও অপমান করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। আমরা এক দেশ, এক আইন মানি।”মালদা-কাণ্ড প্রসঙ্গেও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় রাজনৈতিক মদত ও অনিয়ম রয়েছে। তিনি বলেন, “সিবিআই বা ইডি এলেই সক্রিয়তা দেখা যায়। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। আজ কেন গ্রেফতার? কারণ বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। শুধু মালদা নয়, আমরা অনেক দিন ধরেই এই বিষয়ে বলছি।”ভোটার তালিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিটি বুথে ৫০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে এবং প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ যাচাই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এক কোটিরও বেশি ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যাদের অনেকেই বিদেশি। এরা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় পাচ্ছে।”এদিকে মালদা-কাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তদন্তভার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে তুলে দেন। ইতিমধ্যেই এনআইএ-র একটি দল তদন্ত শুরু করেছে।ঘটনার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেয়। আদালত জানায়, মালদায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ‘দুঃখজনক’। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থা যেমন সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং বিচারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলে। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















