তানিয়া চক্রবর্তী
আগরতলা, ১ জানুয়ারি: দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে নারী নির্যাতন। প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ত্রিপুরা সহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিও নারী সংক্রান্ত ঘটনায় পিছিয়ে নেই। তবে, অসম নারী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। নাগাল্যান্ডে ওই সংক্রান্ত অপরাধের মামলা সবচেয়ে কম নথিভুক্ত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে নাগাল্যান্ডে নারীরা কিছুটা সুরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র ২০২২ সালের প্রকাশিত রিপোর্টে এমনটাই জানা গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরপূর্বাঞ্চলের নারী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। মেঘালয়ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় ত্রিপুরাকে পাল্লা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অ্যাসিড হামলার ঘটনায় অসম বাদে উত্তরপূর্বাঞ্চলের বাকি রাজ্যগুলিতে মহিলারা নিরাপদে রয়েছেন।
এনসিআরবি’র প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় অসম অষ্টম স্থানে রয়েছে। ওই সংক্রান্ত ঘটনায় অসম পশ্চিমবঙ্গকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশের মধ্যে দশম স্থানে রয়েছে। অসমে ১১১৩ টি ঘটনায় ১৪৭৮ জন ধর্ষিতা হয়েছেন। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ১১১১ টি ঘটনায় ১১১২ জন ধর্ষিতা হয়েছেন। তাছাড়া, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সারা দেশের মধ্যে অসম তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অসমে ২৫৩টি ঘটনায় ২৮৩ জন ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন।
তেমনি, মেঘালয়ে ৭৫ জন মহিলা ধর্ষণ হয়েছেন এবং ২০ জন ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন। অরুণাচলপ্রদেশে ধর্ষিতা ৭৪ জন ও ৩ জন ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন। তেমনি, ত্রিপুরায় ৬২ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছেন এবং ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৮ জন। মনিপুরে ধর্ষিতা ৪২ জন। সেই দিকে ওই রাজ্যে ধর্ষণের চেষ্টার শিকারের ঘটনার কোনো রিপোর্টে জানা যায়নি । মিজোরামে ধর্ষিতা ১৪ জন ও ২০ জন ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন। সিকিমে ধর্ষিতা ১৩ জন ও ১ জন ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন। নাগাল্যান্ডে ধর্ষিতা ৭জন। ওই রাজ্যেও ওই ধর্ষণের চেষ্টার শিকারের কোনো ঘটনা রিপোর্টে জানা যায়নি।
এনসিআরবি’র প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌন হয়রানির শিকারের ঘটনাতেও অসম শীর্ষে রয়েছে। অসমে ২১৬টি ঘটনায় ২২১ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তেমনি, মেঘালয়ে ১৩ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ত্রিপুরায় ১০ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫জন। অরুণাচল প্রদেশে ৯ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তেমনি, মিজোরামে ৯টি ঘটনায় ১০ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাছাড়া, মনিপুরে ৫ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। সিকিমে ৪জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১জন। সেক্ষেত্রে নাগাল্যাড যৌন হয়রানির কোনো ঘটনা রিপোর্টে প্রকাশ পায়নি। তবে, মিজোরামে মহিলাদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে ২ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরা ও সিকিমেই কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এনসিআরবি’র প্রকাশিত রিপোর্টে আরও জানা গেছে ,গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাতেও উত্তরপূর্বাঞ্চলে অসম শীর্ষে রয়েছে। এদিক দিয়ে ওই সংক্রান্ত ঘটনায় ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অসমে ৫৮৭০ জন গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন। তেমনি, ওই ঘটনায় ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ত্রিপুরায় ৩৩৮ জন গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন। এছাড়া, অরুণাচল প্রদেশে ৭৪ জন, মেঘালয়ে ২৮ জন, মনিপুরে ১০জন, মিজোরামে ৪জন, নাগাল্যান্ডে ৩ জন এবং সিকিমে ৩জন গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন।



















