বাংলায় পরিবর্তন আসবেই, শেষ হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জঙ্গলরাজ’ : জে পি নাড্ডা

কাটোয়া, ১২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। বললেন, বাংলায় পরিবর্তন আসবেই, শেষ হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জঙ্গলরাজ’। নাড্ডার কথায়, পশ্চিমবঙ্গে কোনও শাসন ব্যবস্থা নেই। বাংলায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেছিল কেন্দ্র। আমরা মানুষজনের মধ্যে চাল এবং গম বিতরণ করেছি, কিন্তু টিএমসি কর্মীরা রেশন সামগ্রী চুরি করেছে। রবিবার ভারতীয় জনতা পার্টির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার পূর্বস্থলী থানার মাঠে জনসম্পর্ক সভায় অংশ নেন নাড্ডা।

এদিন, নিজের বক্তৃতায় নাড্ডা বলেছেন, “আজ আমি মা দুর্গার শক্তিপীঠের পবিত্র ভূমিতে আসার সৌভাগ্য পেয়েছি… এমন একটি পবিত্র ভূমিকে আমার প্রণাম জানাই। এই জনসভার ভিড় থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, বাংলায় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বাংলার মানুষ, মমতা রাজের জঙ্গল শাসনকে বিদায় জানাতে চলেছে।” নাড্ডা বলেছেন, আমরা যে আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তা ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির কাছ থেকে এসেছে, যিনি এই পূণ্যভূমি থেকেই এসেছেন। ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় দ্বারা প্রচারিত মতাদর্শ প্রধানমন্ত্রী মোদীজির দ্বারা এগিয়ে চলেছে এবং বিজেপিকে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে।
জে পি নাড্ডা আরও বলেছেন, মোদীজির শাসনে আমরা জাপানকে পিছনে ফেলে তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি শিল্পে পরিণত হয়েছি, আমরা বিশ্ব থেকে ওষুধ নিতাম কিন্তু এখন ভারত বিশ্বের কাছে ওষুধের দোকানে পরিণত হয়েছে। এখন অ্যাপলের ফোনেও মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা আছে। নাড্ডা বলেছেন, একদিকে, মমতার রাজ জঙ্গলরাজ হিসাবে বিখ্যাত এবং মানুষ শীঘ্রই এই অত্যাচারী শাসনকে ছুড়ে ফেলে দেবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর অধীনে আমরা পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছি এবং সব ক্ষেত্রেই উন্নতি করেছি, এটাই উন্নয়ন। নাড্ডা আরও বলেছেন, মোদীজির নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে আমরা জনগণকে স্বস্তি ও শক্তি দেওয়ার কাজ করেছি। মোদীজি নারী, যুবক, কৃষক, আদিবাসীদের শক্তি দেওয়ার কাজ করেছেন এবং যুবকদের আশা-আকাঙ্খাকে নতুন উড়ান দিয়েছেন।

নাড্ডার কথায়, নারী, দলিত, কৃষক, যুব ও আদিবাসীদের সুশাসন ও ক্ষমতায়ন প্রধানমন্ত্রী মোদী সরকারের বৈশিষ্ট্য। আমরা এখানে সরকার গঠন করতে পারিনি… কোনও সমস্যা নেই। পরবর্তী বারের জন্য প্রস্তুতি নিন, আমরা অবশ্যই পরের বার এখানে সরকার গঠন করব। মোদীজি কখনও বাংলার প্রতি বৈষম্য করেননি। মোদীজি বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিবেদিত। গ্রামে, দরিদ্রদের, বঞ্চিতদের, দুস্থদের শক্তি দেওয়ার কাজ করেছেন মোদীজি। ৮০ কোটি মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু এখানে টিএমসি লোকেরা তাও লুট করেছে।
নাড্ডা দাবি করে বলেছেন, আমরা বৈষম্য করি না এবং এই বছরের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্যও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। কলকাতা মেট্রোর জন্য এক হাজার কোটি টাকা, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার সেন্টারের জন্য ১৫ কোটি টাকা, সত্যজিৎ রায়ের ফিল্ম টেকনোলজির জন্য ৬৩ কোটি টাকা। আক্ষেপ প্রকাশ করে নাড্ডা বলেছেন, আমি দুঃখিত যে আমরা বাংলায় আয়ুষ্মান যোজনা বাস্তবায়ন করতে পারছি না। আপনি যদি চান যে এই স্কিমের সুবিধা আপনিও পাবেন, তাহলে টিএমসিকে বিদায় জানাতে এবং আগামী সময়ে বিজেপিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হন।…মোদীজি দরিদ্রদের জন্য রেশন পাঠান এবং তৃণমূলের লোকেরা নিজেরা লুট করে লাভবান হয়।

পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাড্ডা বলেছেন, এখন বাংলার নারীরা অত্যাচারের দিক থেকে চার নম্বরে, অ্যাসিড হামলার দিক থেকে এক নম্বরে… মমতা দিদির শাসনে এখানে নারীদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। এসএসসি, লটারি, টেট কেলেঙ্কারি… এই সব কেলেঙ্কারির মা হলেন মমতা সরকার। এখন মমতা জিকে ছুটি দিতে হবে… তাকে বাড়িতে বসাতে হবে… তোলাবাজি শেষ করতে হবে… কাটমানি শেষ করতে হবে, তারপর টিএমসিকে বিশ্রাম দিন এবং বিজেপিকে সমর্থন করুন।