হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে কুরুচিকর উচ্চারন মুখ্যমন্ত্রীর, দুর্গাপুরে প্রতিবাদে সরব মতুয়াদের রাস্তা অবরোধ

দুর্গাপুর, ১০ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) দরজায় কড়া নাড়ছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও বেশ কয়েকটি পুর নির্বাচন। তার আগে ক্ষোভ বাড়ছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে। মালদায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে কুরুচিকর উচ্চারনের জেরে প্রতিবাদে সরব হল মতুয়ারা। এবার শিল্পশহর দুর্গাপুর লাগোয়া মানচরের বাসিন্দারা প্রতিবাদে রাস্তায় নামল। শুক্রবার বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করল ক্ষুব্ধ মতুয়া সম্প্রদায়।

এদিন সকালে দামোদর তীরবর্তী বড়জোড়ার মানাচর, পল্লিশ্রী, ঢাকা পাড়া এলাকার মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের প্রতিবাদ মিছিল করে ব্যারেজে পৌঁছায়। রাস্তায় ওঠার আগে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তাতে পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্ত ধস্তাধস্তিও হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশি বাধা টপকে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। রাস্তার ওপর গড়াগড়ি দেওয়া শুরু করে। গুরুত্বপুর্ন ওই সড়কের বেশ কিছুক্ষন অবরূদ্ধ হয়ে পড়ে। আধ ঘন্টার মধ্যেই অবরোধ তুলে নেয় ক্ষুব্ধ মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় হরিচাঁদ ঠাকুরের নামে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যায়লেয়ের একছাত্র। আর তাঁর প্রতিবাদে সরব হয়েছিল মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুর্গাপুর কমিটি। ওইসময় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতারের দাবীতে দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় কমিটির পক্ষে। তার এবার মুখ্যমন্ত্রীর মতুয়াদের গুরুদেবের নাম উচ্চারনে বিকৃতির ঘটনা। স্বাভাবিকভাবে ক্ষুব্ধ মতুয়া সমাজ।

এদিন আন্দোলনকারী উন্নতি সরকার, সন্ধ্যা সরকার প্রমুখ জানান,” ঠাকুরনগর প্রয়াত মা বিনাপানী দেবী বলেছিলেন মমতা ব্যানার্জীকে সমর্থনে ভোট দিতে। আজ আমাদের ভোটে তিনি জিতেছেন। আর আমাদের ভাবাবেগে আঘাত করছেন। তিনি যেভাবে গুরুদেবের নামে আপত্তিকর কুরুচিকর উচ্চারন করেছেন, তাই ঠাকুরনগরে দা়ড়িয়ে ওনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে আগামীদিনে নবান্ন অভিযান হবে।”
এদিকে, রাজ্যে দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত ও দুর্গাপুর সহ বেশ কয়েকটি পুরসভা নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে মতুয়া ভেটে ধস নামছে বলে মত রাজনৈতিক মহলে।