আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি(হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের ধাঁচেই ত্রিপুরায় প্রচার শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ঘরের মেয়ে মমতাকে চাই, শ্লোগান দেননি ঠিকই। কিন্তু আগরতলা বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে মমতার দাবি, ত্রিপুরা তাঁর দ্বিতীয় ঘর। আজ সোমবার নির্বাচনী প্রচারে দুইদিনের সফরে আগরতলায় এসেই তিনি সোজা চলে যান উদয়পুরে মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে। সেখানে পূজা দিয়ে ফেরার পথে বিশ্রামগঞ্জে চায়ের আমেজ নিয়েছেন। সাথে সিঙ্গারা তৈরির জন্য হাতে বেলনি তুলে নিয়েছেন। নিজেই পান বানিয়ে খাইয়েছেন। সহাস্যে তাঁর দাবি, রুটি বেলনি থেকে পানের খিলি তৈরি সবই জানি। ছোটবেলা থেকেই সমস্ত কাজ শিখেছি।
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার দখলের স্বপ্ন আপাতত পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, মাত্র ২৮টি আসনে দল প্রার্থী দিতে পেরেছে। তবুও, প্রচারে ঝড় তুলতে এসেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাথে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আগামীকাল পদযাত্রা এবং রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে পথসভায় তিনি অংশ নেবেন।
এদিন আগরতলা বিমান বন্দরে নেমেই তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ তাঁর প্রথম ঘর, ত্রিপুরা দ্বিতীয়। সাথে তিনি অতীতে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচীর স্মৃতি ফিরিয়ে আনেন। তিনি বলেন, বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা সন্তোষ মোহন দেব মনোরঞ্জন ভক্ত ত্রিপুরায় কংগ্রেসের সংগঠন শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ওই সময় সোনামুড়া থেকে কৈলাসহর চষে বেরিয়েছি।
তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই। ভাষা, খাবার সহ সংস্কৃতিতেও মিল অনেক। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ সময় ধরে ত্রিপুরায় লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে। দলের সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক সহ নেতা কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। তবুও, তৃণমূল থেমে যায়নি এখনো।
আজ তিনি উদয়পুরে মাতা ত্রিপুরসুন্দরী মন্দিরে পূজা দিয়েছেন এবং মায়ের আশীর্বাদ চেয়েছেন। আগরতলায় ফেরার পথে তিনি বিশ্রামগঞ্জ বাজারে সকলে মিলে চা খেয়েছেন। সাথে সিঙ্গাড়া ও কচুরির মজা নিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি। তাই, ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে। ক্ষুধা নিবারণে মুড়ি সাথে সিঙ্গাড়া খেয়েছেন। এদিন বিশ্রামগঞ্জ বাজারে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপচারিতার পাশাপাশি পানের খিলি তৈরি এবং সিঙ্গাড়া বানানোর কাজেও হাত লাগিয়েছেন তিনি।আজ তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিশ্রামগঞ্জে মানুষের মধ্যে বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে, তার প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়বে বলে মনে হচ্ছে না, এমনটাই দাবি রাজনৈতিক মহলের।

