নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জুন৷৷ আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ এনে চরম হুশিয়ারী দিয়েছেন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বিপ্লব দেব৷ তেলিয়ামুড়ায় এবিভিপি’র কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলে শাসক দল এবং রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন তিনি৷ পাশাপাশি জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি বিজেপি সমর্থন করে না৷ তবে, আলাদা রাজ্যের যে দাবি উঠেছে, তার জন্য সিপিএম এবং রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন বিপ্লবাবু৷ তাঁর মতে, রাজ্যে উপজাতিদের উন্নয়ন হয়নি, তাই আজ রাজ্যভাগের দাবি উঠছে৷ সাথে তিনি কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে আইপিএফটি’র এনসি দেববর্মা গোষ্ঠি জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে সিপিএমের এই অভিযোগের খন্ডন করে বিপ্লবাবুর দাবি, রাজ্যভাগের দাবিতে রাস্তায় বসার জন্য কেন্দ্র তাদের বলেনি৷ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হউক, তা চাইছে কেন্দ্র৷
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে, বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বিপ্লব দেব তেলিয়ামুড়ায় এবিভিপি’র কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান৷ তিনি বলেন, তেলিয়ামুড়া দলীয় কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন৷ কিন্তু, শাসক দলীয় ক্যাডাররা তাদের উপর আক্রমণ চালায়৷ থানার মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর চালিয়েছে শাসক দলের ক্যাডাররা৷ অথচ পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে৷ পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা অস্বীকার করছেন খোয়াই জেলা পুলিশ সুপার৷ তিনি জানিয়েছেন, লাঠি চার্জের কোন আদেশ তিনি দেননি৷ বিপ্লবাবুর অভিযোগ, শাসক দলের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটেছে৷ তাই তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, শাসক দল যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করতে না চায়, তাহলে তাদের দেখানো রাস্তাতেই হাঁটবে বিজেপিও৷ এদিকে, আইপিএফটি’র অবরোধ আন্দোলনের সাথে মণিপুর কায়দায় ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ সিপিএম এনেছে, তার খন্ডন করে বিপ্লববাবুর দাবি, আলাদা রাজ্যের দাবি বিজেপি সমর্থন করে না৷ তাই আইপিএফটি’র জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধকে সমর্থন করার প্রশ্ণই আসে না৷ তাঁর বক্তব্য, আইপিএফটি একটি রাজনৈতিক দল৷ তাদের রাজনৈতিক পদক্ষেপ থাকতেই পারে৷ কিন্তু, বিজেপি রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাসী নয়৷ তিনি রাজ্যভাগের যে দাবি উঠেছে, তার জন্য শাসক দল এবং বামফ্রন্ট সরকারকে দায়ী করেছেন৷ তাঁর কথায়, রাজ্যে জনজাতির কোন উন্নয়ন হয়নি৷ যদি তাঁদের সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন হতো, তাহলে রাজ্যভাগের দাবি উঠত না৷ তাঁর সাফ কথা, রাষ্ট্র বিভাজনে কমিউনিষ্টরাই এগিয়ে থাকে৷ তাই তিনি আইপিএফটি’র অবরোধ আন্দোলন কিভাবে প্রতিহত করতে হবে তা রাজ্য সরকারকেই ভাববার জন্য বলেছেন৷ পাশাপাশি দাবি করেন, রাজ্য পরিচালনা করতে না পারলে পদত্যাগ করুক বামফ্রন্ট সরকার৷
সাথে তিনি আইপিএফটি’র অবরোধ আন্দোলনের পিছনে কেন্দ্রের কোন ইন্ধন নেই, সেকথাও স্পষ্ট করে দেন৷ বিপ্লববাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যভাগের দাবিতে আইপিএফটি’কে রাস্তায় বসতে বলেনি৷ বরং কেন্দ্র চাইছে আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে এই সমস্যাকে সমাধান করা যায়৷ তাই আলোচনার জন্য আইপিএফটি’র এনসি দেববর্মা গোষ্ঠি দিল্লিতে ডেকেছিল৷
এদিকে, অশ্বমেঘ ঘোড়া প্রসঙ্গে সিপিএমের কটাক্ষেরও জবাব দিয়েছেন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি৷ তিনি বলেন, বিজনবাবুরা এখনই হার মেনে নিয়েছেন৷ তাই এই ধরনের কথা বলছেন৷ তাঁর দাবি, বিজেপি ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই ক্ষমতা দখল করা হবে৷

রেল ও সড়ক অবরোধে বসতে আইপিএফটিকে বলেনি কেন্দ্র, আইন শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ এনে রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন বিজেপি সভাপতি
Releated Posts
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…


















