নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মার্চ৷৷ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা নিয়ে এখন শিক্ষক-শিক্ষিকারা কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকবেন৷ এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই সাজানো হয়েছে নতুন দীশা প্রকল্প৷ শুক্রবার মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে৷ প্রকল্প অনুসারে মূল্যায়ণ হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও৷ তাতে দূর্বলতা ধরা পরলে তাঁদেরও জবাবদীহী করতে হবে৷ শনিবার মহাকরণে একথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর কথায়, রাজ্যের শিক্ষার ব্যবস্থার বেহাল দশার জন্য কোন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আমরা দায়ী করব না৷ কিন্তু, এখন থেকে তাঁরা কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকবেন৷

তৃতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্য্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মূল্যায়ণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে৷ তাতে, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার হাল হতাশাজনক বলে উঠে এসেছে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তৃতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্য্যন্ত ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৬১১ জন ওই কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছে৷ তাদের মূল্যায়ণ করা হয়েছে৷ মূল্যায়ণ শেষে প্রাপ্ত রিপোর্ট থেকে শিক্ষামন্ত্রী এদিন কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণীর ৫১ হাজার ৫৫৯ জন ছাত্রছাত্রীর মূল্যায়ণ করা হয়েছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীর ৬০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী দ্বিতীয় শ্রেণীর বাংলা বই পড়তে পারে না৷ তেমনি ৪৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বিয়োগ জানে না এবং ৮১ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ভাগ জানে না৷
এদিন শিক্ষামন্ত্রী অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার হাল সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন৷ তাঁর কথায়, অষ্টম শ্রেণীতে ৫৪ হাজার ৬৬ জন ছাত্রছাত্রীর মূল্যায়ণ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ৫৮০০ জনের সংখ্যা পরিচিতি হয়নি৷ তারা ১ থেকে ৯ পর্যন্ত পড়তে পারলেও ১১ সংখ্যাটি থেকে পড়তে পারে না৷ তিনি আরও জানান, অষ্টম শ্রেণীর ৩৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী দ্বিতীয় শ্রেণীর বাংলা বই পড়তে পারে না৷ তেমনি ৬৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ভাগ করতে জানে না৷
তাই, শিক্ষার হাল ফেরাতে নতুন প্রকল্প এনেছে রাজ্য সরকার, বলেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তিনি জানান, ‘নতুন দীশা’ প্রকল্পে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে৷ এই প্রকল্পের জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, এই প্রকল্পের অন্তর্গত সেরা ৮০০ শিক্ষক বাছাই করে তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ ১৫ দিন রাজ্যে এবং ১৫ দিন বহিরাজ্যে প্রশিক্ষণ নেবেন তাঁরা৷ পাশাপাশি, বুনিয়াদী স্তরে মোট ২৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, ওই ৮০০ শিক্ষক প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তিন বছর কোন সুকলে শিক্ষকতা করবেন না৷ তাঁদের ব্লক স্তরে পোস্টিং দেওয়া হবে৷ কারণ, তাঁরা সুকলের প্রতি ক্লাসের উপর নজরদারী চালাবেন৷ তিনি বলেন, ওই শিক্ষকরা ক্লাসের ভেতরেই ছাত্রছাত্রীদের সাথে বসে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কি পড়াচ্ছেন তা নজরদারী করবেন৷ এর ভিত্তিতে ওই ক্লাসের শিক্ষকের মূল্যায়ণও তাঁরাই করবেন৷
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি শিক্ষকের জন্য ওয়ার্কবুক তৈরি করে দেওয়া হবে৷ তাতে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষণ কর্মক্ষমতা যাচাই করা সহজ হবে৷ তিনি আরও জানান, প্রতি শিক্ষা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওয়ার্কবুক যাচাই করা হবে এবং বছরের শেষে পর্যালোচনা করবে শিক্ষা দপ্তর৷ শুধু তাই নয়, তৃতীয় পক্ষকে দিয়েও শিক্ষক-শিক্ষকাদের শিক্ষণ কর্মক্ষমতা যাচাই করা হবে৷ পাশাপাশি, প্রযুক্তির সহায়তায় ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যেকের পড়াশুনার হাল নজরদারীতে রাখা হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী দাবি, একজন শিক্ষক একজন ছাত্রকে কিভাবে পড়াচ্ছেন তা পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
তিনি জানান, এই প্রকল্পে প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকদের ল্যাপটপ দেওয়া হবে৷ ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্ত তথ্য তাঁদের এমআইএস-এ তুলতে হবে৷ এছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই ৮০০ শিক্ষকরাও সমস্ত রিপোর্ট এমআইএস-এ তুলবেন৷
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, বুনিয়াদী স্তরেই ছাত্রছাত্রীদের মজবুতভাবে গড়ে তুলতে না পারলে তাঁদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করা সম্ভব নয়৷ এই প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷ পাশাপাশি, এই প্রকল্প সঠিকভাবে রূপায়নে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সহযোগীতা চেয়েছেন তিনি৷



















