ওয়াশিংটন, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভারত-সহ উন্নয়নশীল দেশগুলির কৃষক ও অন্যান্য কর্মজীবী মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তাঁর মতে, উন্নত দেশগুলিতে এআই-এর কারণে কর্মসংস্থান নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে তাৎক্ষণিকভাবে একই ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। বরং কৃষি, শিক্ষা, দক্ষতা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘ছোট এআই’ বা ‘স্মল এআই’-এর ব্যবহার বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএনএনের ফারিদ জাকারিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এক আলোচনায় বাঙ্গা উত্তরপ্রদেশের একটি উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গুগলের সঙ্গে সহযোগিতায় এমন একটি এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত নিরক্ষর মহিলা কৃষকরাও সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ফসলের রোগ শনাক্ত করতে পারছেন।
বাঙ্গা বলেন, একজন মহিলা কৃষক সাধারণ ৩জি ফোনে কথা বলে এবং আক্রান্ত গাছের পাতার ছবি তুলে প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ শনাক্ত করতে পারেন। এরপর তাঁর স্থানীয় সমবায় থেকে প্রয়োজনীয় কীটনাশকের তথ্যও পাওয়া যায়। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি উন্নত জ্ঞানকে এমন মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, যাঁদের কাছে আগে এই ধরনের তথ্য বা প্রযুক্তির সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল না।
বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, এআই নিয়ে উন্নত দেশগুলির আলোচনায় মূলত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম এবং জেনারেটিভ এআই-এর মতো প্রযুক্তি প্রাধান্য পাচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলির জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা, শক্তি, তথ্য, দক্ষ কর্মী এবং মূলধন প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে এই পাঁচটি উপাদান এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই।
এই কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য ‘স্মল এআই’ বা ছোট এআই প্রযুক্তিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাঙ্গা। তাঁর মতে, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নত করা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পূর্বাভাসভিত্তিক ছোট এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বাঙ্গা বলেন, উন্নত দেশগুলিতে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাকরি প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এই প্রভাব এক অঙ্কের শতাংশে নেমে আসে এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে তা প্রায় শূন্য হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলির এখনও উৎপাদনশীলতা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে উন্নত দেশগুলির মতো একই মাত্রায় কর্মসংস্থান হারানোর চাপ এখনই তাদের সামনে তৈরি হয়নি।
আলোচনায় গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসও অংশ নেন। তিনি উন্নত দেশগুলিতে এআই-এর সম্ভাব্য কর্মসংস্থান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আইন-সহ বিভিন্ন পেশায় গবেষণা ও নথিপত্র তৈরির মতো কাজ ক্রমশ এআই-এর মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স উৎপাদন ক্ষেত্রের চাকরিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মিৎসোতাকিসের বক্তব্য, বিশ্বায়নের কারণে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে থাকা উন্নত বিশ্বের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কর্মসংস্থানে একদিকে এআই এবং অন্যদিকে রোবোটিক্স নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, অজয় বাঙ্গার বক্তব্যে স্পষ্ট, উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষেত্রে এআইকে শুধুমাত্র চাকরি হারানোর সম্ভাবনা হিসেবে না দেখে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
























