নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, আলোচনা ও কূটনীতিতে ভারত ও সুইজারল্যান্ডের বিশ্বাস রয়েছে। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে সুইস প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া—শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেছে।
সুইস প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, গত বছরের অক্টোবরে পারমেলিনের ব্যক্তিগত সমর্থনে ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন-এর দেশগুলির সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি ইউরোপের কোনও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ এবং ১০ লক্ষ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও সুইজারল্যান্ডের বন্ধুত্ব বহু শতাব্দী পুরনো। উনিশ শতকে স্বামী বিবেকানন্দ সুইস আল্পসে হিমালয়ের ছায়া দেখেছিলেন এবং মহাত্মা গান্ধীও সুইজারল্যান্ডে সময় কাটিয়েছিলেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের এই স্মৃতিগুলি আজও বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে চলেছে।
মোদি জানান, উদ্ভাবন, পরিকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তি বর্তমানে ভারত-সুইজারল্যান্ড অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সামরিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
ভারতের কৃষি, ওষুধ, বস্ত্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের জন্য সুইজারল্যান্ডের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বায়োটেকনোলজি, জীবনবিজ্ঞান, ব্যাঙ্কিং, বিমা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুইস বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হবে।
মানুষে-মানুষে যোগাযোগকে ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এদিন স্বাক্ষরিত অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং ইয়ং প্রফেশনালস চুক্তির ফলে ভারতীয় পড়ুয়া, গবেষক, পেশাদার ও যুবকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।



















