নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে, তবে তা সম্ভবত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষের পক্ষে আরও ছাড় দেওয়া বা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সোমবার এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
এখানে মিউনিখ লিডার্স মিটিং ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে সীতারামন বলেন, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত কঠিন ও জোরালো আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, দুই দেশই এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে ‘প্ল্যাটো’ বলা যেতে পারে। তবে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য ভারসাম্য ভারতের পক্ষে রয়েছে। আমেরিকা তার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চাইছে এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষতি নিয়ে মার্কিন পক্ষের উদ্বেগ রয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর অধীনেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। দুই দেশই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী চুক্তিটি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সীতারামন। তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ জিডিপি অন্তর্ভুক্ত হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের ব্যবহৃত ‘মাদার অব অল ডিলস’ মন্তব্যটিকেও তিনি যথাযথ বলে উল্লেখ করেন।
সীতারামন জানান, চুক্তির আওতায় ভারত তার ৯২.৫ শতাংশ ট্যারিফ লাইনের পাশাপাশি বাণিজ্য মূল্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ বাজার খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৯ শতাংশ বাণিজ্য মূল্যের এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ ট্যারিফ লাইনের বাজার উন্মুক্ত করেছে।
তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই অর্থনীতির পরিপূরক বৈশিষ্ট্য এবং ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



















