নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি ব্যবস্থায় আরও সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করদাতাদের জন্য নিয়মকানুন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সহজ করাই পরবর্তী পর্যায়ের সংস্কারের মূল লক্ষ্য বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সোমবার লিঙ্কডইনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ ভাগ করে তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির গতিও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া জিএসটি হার সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলি ছিল সংস্কারের প্রথম পর্যায়। এবার কর ব্যবস্থা পরিচালনার প্রক্রিয়াগত দিকগুলিকে আরও সহজ করার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এই সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলি শীঘ্রই জিএসটি কাউন্সিলের সামনে পেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সীতারামনের মতে, সংস্কারের উদ্দেশ্য হল সাধারণ পরিবারের উপর করের চাপ কমানো, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও বেশি নিশ্চয়তা দেওয়া এবং করদাতাদের পক্ষে নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া সহজ করে তোলা।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট করা করযোগ্য সরবরাহের মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট জিএসটি সংগ্রহ বেড়ে হয়েছে ১২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৬ শতাংশ বেশি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাস জিএসটি সংগ্রহে বার্ষিক ভিত্তিতে দুই অঙ্কের বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। এই চার মাসে সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে রিফান্ড বাদ দিয়ে নিট জিএসটি সংগ্রহের বৃদ্ধির হার ছিল ১০.৪ শতাংশ।
এছাড়া সংস্কার-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা থেকে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহের পরিমাণ বা বি-টু-সি (B2C) সরবরাহ ২৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষে জিএসটি-নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭১ কোটিতে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
সীতারামন আরও জানান, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা জিএসটি রিফান্ড দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক পরিকল্পনা ও নগদ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে এবং পূর্বানুমানযোগ্য পদ্ধতিতে রিফান্ড দেওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দেন তিনি।
একই সময়ে রাজ্যগুলির সামগ্রিক এসজিএসটি (SGST) আয়, আইজিএসটি (IGST) নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ-সহ, প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
আগামী ৭ অক্টোবর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে যে প্রস্তাবগুলি বিবেচনা করা হবে, সেগুলি রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। কর সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে সময় ও খরচ কমানোই এই প্রস্তাবগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে ছোট ব্যবসা এবং উদ্যোগগুলির সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



















