লখনউ, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ভোটার তালিকা থেকে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত এবং একাধিকবার নথিভুক্ত ভোটারদের নাম যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারক। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম নথিভুক্ত থাকার মতো বিষয়গুলি নিয়ম মেনে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম চিহ্নিত করে বাদ দেওয়াও জরুরি।
যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা, ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে ভোটার তালিকার যথাযথ সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
একই সঙ্গে সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সে পা রাখা তরুণ-তরুণীদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেক যোগ্য তরুণ ভোটারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পেতে পারে।
বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। যদিও শাসক পক্ষ বিরোধীদের এই অভিযোগ খারিজ করেছে।
এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা দুটি রিট আবেদনের শুনানি সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, আবেদনগুলিতে সেই বিষয়গুলিও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



















