নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজের মেনু নিয়ে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতারা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের দাবি, দেশের কূটনৈতিক সাফল্যকে স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতিকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
ব্রিকসের নৈশভোজের মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীর পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ফড়নবীস বলেন, দেশের সাফল্য নিয়ে কেউ সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে আহত বোধ করলে এমন মন্তব্য করতে পারেন। তাঁর দাবি, ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম বড় সাফল্য হল দিল্লি ঘোষণাপত্র সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়া।
ফড়নবীস বলেন, চিন, রাশিয়া-সহ ব্রিকসের সব সদস্য দেশ দিল্লি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। তাঁর মতে, গ্লোবাল সাউথ এই ঘোষণাকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে এবং ঘোষণাপত্রে পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের সরাসরি নিন্দা করা হয়েছে। এটিকে তিনি ভারতের বড় কৌশলগত ও কূটনৈতিক সাফল্য বলে দাবি করেন।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। এর পরেই রাহুল গান্ধী ভারতের খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান। পাশাপাশি ভারতীয় আমিষ খাবারের প্রশংসা করে নিজের বোনের পছন্দের ছোলে ভাটুরের কথাও উল্লেখ করেন এবং খাবারের টেবিলে ছোলে ভাটুরের একটি ছবি পোস্ট করেন।
মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিশ্বাস সারংও রাহুল গান্ধীর এই পোস্টের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক কোনও অনুষ্ঠানের বিষয়ে মন্তব্য করার সময় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা উচিত। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর ব্রিকস সম্মেলনে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত, নৈশভোজে কী খাবার পরিবেশন করা হয়েছে তা নিয়ে নয়।
সারং আরও বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, রাহুলের সেগুলি নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, রাহুল গান্ধীর উপদেষ্টারা কারা এবং তিনি কবে বিষয়টি বুঝবেন।
তবে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও খাবারের ঐতিহ্য রয়েছে এবং সব ধরনের খাবারকেই সম্মান করা উচিত। একইসঙ্গে দেশের ঐতিহ্য ও বিশ্বাস সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি।
ব্রিকসের নৈশভোজের মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিজেপি নেতারা সম্মেলনের কূটনৈতিক সাফল্যের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি দেশের খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে।
—আইএএনএস



















