গুয়াহাটি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, গায়ক, সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. ভূপেন হাজারিকার ১০০তম জন্মবার্ষিকীতে মঙ্গলবার গভীর শ্রদ্ধা জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, ভূপেন হাজারিকা শুধু একটি নাম নন, তিনি অসমের মানুষের হৃদয় ও আত্মায় গভীরভাবে প্রোথিত এক আবেগ।
এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গান ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কথাগুলি আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অসমের মানুষের জীবন, গল্প, স্বপ্ন ও সংস্কৃতি রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে দেশ-বিদেশে পৌঁছে গিয়েছে।
শর্মা বলেন, “ড. ভূপেন হাজারিকা শুধু একটি নাম নন; তিনি এমন এক আবেগ, যা অসমের হৃদয় ও আত্মায় বেঁচে রয়েছে। তাঁর কালজয়ী সংগীত ও গভীর বাণী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘ব্রহ্মপুত্রের বরদা’ হিসেবে পরিচিত ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী দেশজুড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান তাঁর চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারকে আরও একবার তুলে ধরেছে। কিংবদন্তি ‘সুধাকণ্ঠ’ ভূপেন হাজারিকার অবদান শুধু সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিল্পকর্ম অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয়, আকাঙ্ক্ষা ও মানুষের জীবনকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া শ্রদ্ধার প্রতিও প্রতিক্রিয়া জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে স্মরণ করেন, গত বছর গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বছরব্যাপী জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সূচনা করেছিলেন।
শর্মা বলেন, জন্মশতবর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত দিকনির্দেশনা ও অংশগ্রহণের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। চলতি বছরের শেষদিকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির দিকেও তিনি তাকিয়ে রয়েছেন বলে জানান।
ভূপেন হাজারিকার সংগীত, চলচ্চিত্র, সাহিত্য এবং ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর অসামান্য অবদান তুলে ধরতেই এই বছরব্যাপী জন্মশতবর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। অসমেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। গুয়াহাটির ভূপেন হাজারিকা সমন্বয় তীর্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়ে শিল্পীকে স্মরণ করেন।
১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অসমের সদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ভূপেন হাজারিকা। পরবর্তীকালে তিনি ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তাঁর গান সাধারণ মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষাকে গভীরভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি মানবতা, সম্প্রীতি এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করত।
অসমের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতা ও মুম্বইতেও তাঁর শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
২০১৯ সালে মরণোত্তর ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন ভূপেন হাজারিকা। তাঁর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর অমর সৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদযাপন করা হচ্ছে।
অসমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান ভূপেন হাজারিকার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
–আইএএনএস


















