নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভারত ও চিনের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা চলার মধ্যেই অরুণাচলপ্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ে প্রথম পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) জানিয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের দিকে অরুণাচলপ্রদেশের ভাচায় এবং ৭ সেপ্টেম্বর চিনের দিকে দামাইয়ে এই বৈঠক হয়।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দ্বি-সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত ও চিনের প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা এবং পরবর্তীতে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠকে হওয়া আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জয়সওয়াল বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট এবং ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত ও চিনের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে এবং ডব্লিউএমসিসির আওতায় পরবর্তী আলোচনার পর এই প্রথম উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মে ও আগস্ট ২০২৬-এ যথাক্রমে বেজিং ও নয়াদিল্লিতে ডব্লিউএমসিসির বৈঠক হয়েছিল। পশ্চিমাঞ্চলেও একই ধরনের একটি ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে ২৫ আগস্ট বেজিংয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।
বৈঠকে ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা চিনের বিশেষ প্রতিনিধি ও সেন্ট্রাল ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিশনের অফিসের ডিরেক্টর ওয়াং ই ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা আলোচনা করেন।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে এবং ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে বলে দুই পক্ষই স্বীকার করেছে। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা এবং নির্ধারিত তিনটি সীমান্ত বাণিজ্যপথ দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যসহ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সীমান্ত পারাপার ফের স্বাভাবিক হওয়ায় দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এমইএ-র বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলগত নির্দেশনা এবং গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী মনোভাবের ভিত্তিতে দুই বিশেষ প্রতিনিধি ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে খোলামেলা ও গভীর মতবিনিময় করেন। দুই পক্ষই সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের প্রেক্ষিতে সীমান্ত প্রশ্নের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ভারতীয় পক্ষ জোর দিয়েছে।
এর আগে ৬ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক ডব্লিউএমসিসির ৩৬তম বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্তপারের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খোলামেলা আলোচনা করে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলেও জোর দেওয়া হয়।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এলএসি বরাবর বকেয়া বিষয়গুলির সমাধান এবং ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাবের সম্ভাবনা এড়াতে ডব্লিউএমসিসি, স্থানীয় কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকসহ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেল এবং অন্যান্য সম্মত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশের আধিকারিকরা সম্মত হয়েছেন।
এছাড়া আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক দ্রুত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় জানিয়েছে ভারত। উজানে নদীর ওপর বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
–আইএএনএস


















