নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): দিল্লির বাওয়ানা এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে তিন বছরের এক নার্সারি পড়ুয়াকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্কুলের এক বাসচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ আধিকারিকরা এ কথা জানিয়েছেন।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের নাম বিকাশ। প্রায় আট মাস ধরে তিনি ওই স্কুলে বাসচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, চকোলেট দেওয়ার মাধ্যমে ওই শিশুর সঙ্গে পরিচয় তৈরি করে একাধিকবার তাকে যৌন নিগ্রহ করা হয়।
তদন্তে শিশুটির পরিচয় এবং অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্কুল চত্বর থেকেই বিকাশকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৯ আগস্ট রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শিশুটির মা কী ঘটেছে জানতে চাইলে সে স্কুলের এক ‘খারাপ কাকু’র কথা জানায়, যিনি তাকে চকোলেট দিতেন।
তিন বছরের শিশুটি ওই ব্যক্তির নাম বলতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে শনাক্ত করতে সাহায্য চান। ২৪ আগস্ট স্কুলের কর্মীদের ছবি এবং স্কুল চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ শিশুটিকে দেখানো হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটি বিকাশকে সেই ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করে, যার কথা সে ‘খারাপ কাকু’ বলে উল্লেখ করেছিল।
এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। সংশ্লিষ্ট ধারায় শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো)-এর অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি বাথরুমের দিকে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু নেয়। এরপর চকোলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলের সিঁড়ির নিচে তাকে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তের সময় অভিযুক্তের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। আধিকারিকদের দাবি, ওই ফোনে ছোট শিশুদের চকোলেট খাওয়ানোর একাধিক ভিডিও পাওয়া গিয়েছে।
ভিডিওগুলিতে থাকা শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিশুদের কাউন্সেলিংও করা হচ্ছে।
এছাড়া স্কুল চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা। ঘটনাগুলির ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য কোনও শিশুকে নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে। বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
—আইএএনএস



















