নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২,২৭৩ জন ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্ট) করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)।
সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২,২৭৩ জন ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩,৫৬৭।
তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ ও ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখে। কোনও ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব এলে প্রথমে তার পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিস্তারিত যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে ভারতীয় নাগরিক, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, ভারত অবৈধ অভিবাসনের বিরোধী এবং সবসময় বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকেই উৎসাহিত করে। জয়সওয়াল বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি কোনও দেশে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি না পান এবং তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ফেরত পাঠানোর দাবি ওঠে, তবে ভারত সরকার নথিপত্র যাচাই ও জাতীয়তা নিশ্চিত করার পরই তাকে গ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। যদিও এক ফেডারেল বিচারক এই নীতিকে বেআইনি কর হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেন, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে তারা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচিত যে কোনও শ্রেণির বিদেশির প্রবেশ সীমিত করার আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রয়েছে এবং তিনি সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছেন। বহু বছর ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে। তা বন্ধ করতেই প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত আগে প্রায় একই ধরনের একটি নির্দেশ বহাল রেখেছিল। তাই আপিলে এই সিদ্ধান্তও পাল্টে যাবে বলে প্রশাসন আশাবাদী।



















