তিরুবনন্তপুরম, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): কেরলের তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশন কাউন্সিলে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই জেলবন্দি বিজেপি কাউন্সিলর আর. সুগতনের ছয় মাসের অনুপস্থিতির ছুটির আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে কেরল মিউনিসিপ্যালিটি আইনের অধীনে তাঁর কাউন্সিলর পদ আপাতত বহাল থাকল। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়েছে।
ভাঝোট্টুকোনাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আর. সুগতন বর্তমানে কেরল অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট (কেএএপিএ)-এর অধীনে ভিয়্যুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন। কেরল মিউনিসিপ্যালিটি আইন অনুযায়ী, পূর্বানুমতি ছাড়া টানা তিনটি কাউন্সিল বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে কোনও কাউন্সিলর তাঁর সদস্যপদ হারাতে পারেন।
১০১ সদস্যের কাউন্সিলে সুগতনের ছুটির আবেদন ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হয়। বিজেপির পাশাপাশি দুই নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থন এবং মেয়র ভি. ভি. রাজেশের কাস্টিং ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। বৈঠক শেষে মেয়র জানান, মোট ৫১ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
রাজেশ বলেন, সুগতন প্রথমে ভিয়্যুর জেল থেকে কাউন্সিল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি চেয়েছিলেন। সরকার সেই আবেদন নাকচ করলেও কর্পোরেশন কাউন্সিলের কাছে ছুটির আবেদন করার পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী কেরল মিউনিসিপ্যালিটি আইনের ৯১কে ধারায় আবেদন জমা পড়ে এবং তা অনুমোদিত হয়।
সুগতনের আবেদন নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই কাউন্সিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর কাউন্সিলররা প্ল্যাকার্ড হাতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং আবেদন খারিজের দাবি তোলেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, কেএএপিএ-র অধীনে আটক একজন কাউন্সিলরকে ছয় মাসের ছুটি দেওয়ার নজির নেই। সাধারণত অসুস্থতা বা অনিবার্য ব্যক্তিগত কারণেই এমন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, কর্পোরেশন কাউন্সিল কেবল আইন অনুযায়ী তাদের প্রদত্ত ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছে এবং এতে কোনও অনিয়ম হয়নি।
বর্তমানে ১০১ সদস্যের তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির ৪৯ জন, এলডিএফের ২৯ জন, ইউডিএফের ২০ জন এবং দুই জন নির্দল কাউন্সিলর রয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৫১টি ভোট, ফলে দুই নির্দল সদস্যের সমর্থনই এই প্রস্তাব পাশ করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে চার দশকেরও বেশি সময় পর বামেদের হাত থেকে তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের দখল নিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের এই ভোট বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে সুগতনের তাৎক্ষণিক অযোগ্যতা এড়ানো গেছে, এলডিএফ এবং ইউডিএফ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা কর্পোরেশন কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তকে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।



















