নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): শুধু বিবাহিত হওয়ার কারণে কোনও কন্যাকে করুণাভিত্তিক (কমপ্যাশনেট) নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছিন্ন বা পরিত্যক্ত কন্যাদেরই এই নিয়োগের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করার সরকারি নীতি অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের বেঞ্চ পাটনা হাইকোর্টের একটি রায় খারিজ করে এই নির্দেশ দেয়। ওই রায়ে সায়ারা খাতুনের মেয়ের করুণাভিত্তিক চাকরির আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল।
আবেদনকারীরা বিহার সরকারের ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪-র নীতিকে চ্যালেঞ্জ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছিন্ন বা স্বামীর দ্বারা পরিত্যক্ত কন্যারাই করুণাভিত্তিক চাকরির জন্য যোগ্য হবেন।
বিহার সরকার আবেদনটি খারিজ করার ক্ষেত্রে আরও যুক্তি দেয় যে, মৃত সরকারি কর্মীর ভাই ওই নিয়োগে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ওই ভাই আগেই একটি ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) জমা দিয়েছিলেন। ফলে এই আপত্তির ভিত্তিতে আবেদন খারিজ করার কোনও যৌক্তিকতা আর নেই।
সরকারি নীতির বৈধতা নিয়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, ছেলে ও মেয়ের মধ্যে এ ধরনের বৈষম্য সংবিধানসম্মত নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এই আদালত একাধিকবার বলেছে, ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করে যে কোনও শ্রেণিবিভাগ স্বয়ং অসাংবিধানিক।”
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, “শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছিন্ন বা পরিত্যক্ত কন্যাদের যোগ্য বলে সীমাবদ্ধ করা আইনের চোখে টেকসই নয়।”
বিহার সরকারের নীতির ভিত্তিতে থাকা ধারণাকেও খারিজ করে আদালত জানায়, “আইনগতভাবে এমন কোনও অনুমান করা যায় না যে, বিয়ের পর একটি মেয়ে তার পিতৃপরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে শুধুমাত্র স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করে।”
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী জানিয়েছেন যে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ আইনিভাবে স্বীকৃত না হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন এবং মা ও ভাইয়ের সহায়তায় জীবনযাপন করছেন।
আদালত আরও মন্তব্য করে, “অতিরিক্ত কারিগরি বা কঠোর আইনি ব্যাখ্যার অজুহাতে তাঁর করুণাভিত্তিক চাকরির আবেদন বিবেচনা না করা যায় না।”
এরপর সুপ্রিম কোর্ট পাটনা হাইকোর্টের রায় এবং বিহার সরকারের আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি, বিহার সরকারকে নির্দেশ দেয়, এই রায়ের কপি পাওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীর করুণাভিত্তিক নিয়োগের আবেদন যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।



















