আগরতলা, ৩১ জুলাই: চাকরি নিয়মিতকরণ, চাকরির নিরাপত্তা এবং সমকাজে সমবেতনের দাবিতে আজ রাজ্যজুড়ে ‘কালো দিবস’ পালন করল ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী ফোরাম। মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদে সামিল হন বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়মিত কর্মচারীরা।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফোরামের সদস্য বাবুল আচার্য অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার অনিয়মিত কর্মচারীদের ১০ বছর চাকরি সম্পূর্ণ হলে নিয়মিতকরণের যে নীতি চালু করেছিল, ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তা বাতিল করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে কোনও নিয়মিতকরণ নীতি প্রণয়ন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
বাবুল আচার্যের অভিযোগ, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের নেতারা ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ফোরামের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে ৩৫ হাজারেরও বেশি অনিয়মিত ও ক্যাজুয়াল কর্মচারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯,৫০০ জন স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মরত। ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মরত বাবুল আচার্য বলেন, বহু কর্মচারী এখনও মাসিক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন, যা বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
তিনি মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার কাছে অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ, চাকরির নিরাপত্তা অথবা সমকাজে সমবেতনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান। তাঁর দাবি, বহু কর্মচারী স্থায়ী চাকরির স্বীকৃতি না পেয়েই অবসর গ্রহণ করেছেন।
ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারের কাছে তাঁদের দাবি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সরকার যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন ফোরামের প্রতিনিধিরা।
…….



















