আগরতলা, ৩১ জুলাই: প্রায় ১৮ মাসের দীর্ঘ পর্যালোচনা, গবেষণা ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে পরামর্শের পর ত্রিপুরার ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশন (স্টেট ফাইন্যান্স কমিশন) শুক্রবার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার হাতে তুলে দিয়েছে। এই প্রতিবেদন রাজ্যে আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার কমিশনের চেয়ারম্যান আইএএস অফিসার অভিষেক সিং মুখ্যমন্ত্রীর হাতে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য-সচিব তথা অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ড. অকিঞ্চন সরকার।
সূত্রের খবর, ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান (পিআরআই), নগর স্থানীয় সংস্থা (ইউএলবি) এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর মধ্যে বণ্টনের একটি নতুন সূত্র সুপারিশ করেছে কমিশন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলা ও মহকুমা, যেখানে গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্রের সংখ্যা বেশি, সেখানে উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানের ২৪৩(আই) ও ২৪৩(ওয়াই) অনুচ্ছেদের অধীনে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি ত্রিপুরা সরকার ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশন গঠন করে। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন আইএএস অফিসার অভিষেক সিং এবং সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পল্লব কান্তি ঘোষাল। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইএএস অফিসার ড. অকিঞ্চন সরকার।
কমিশনের প্রধান দায়িত্ব ছিল রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান ও নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং রাজ্যের আর্থিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের নীতি নির্ধারণ করা। পাশাপাশি তৃণমূল স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক সুপারিশও করা হয়েছে।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, জনপ্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়েছে। সরকার সুপারিশগুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে রাজ্যের সর্বত্র সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
কমিশনের চেয়ারম্যান অভিষেক সিংও কমিশনের কাজে সহযোগিতার জন্য পঞ্চায়েত দপ্তর, নগর উন্নয়ন দপ্তর, অর্থ দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনটি এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
যদিও প্রতিবেদনটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কমিশনের বিস্তারিত সুপারিশ এবং রাজস্ব বণ্টনের প্রস্তাবিত সূত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই প্রতিবেদনটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবেদন আগামী পাঁচ বছরের জন্য ত্রিপুরায় আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরি করবে এবং পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান, নগর স্থানীয় সংস্থা ও টিটিএএডিসি-কে আরও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে জনপরিষেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















