ওয়াশিংটন, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): এশিয়ার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিদেশে জনসংযোগ কৌশল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই নতুন জনকূটনীতি (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) কৌশলে ভারত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন গ্লোবাল মিডিয়া এজেন্সি (ইউএসএজিএম)-এর প্রধান পদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী সারা রজার্স সিনেটের বিদেশ সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিকে জানান, চীন এবং অন্যান্য কর্তৃত্ববাদী সরকারের তথ্যপ্রচারমূলক প্রচারের মোকাবিলায় এশিয়া সংস্থাটির অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র হবে।
রজার্স বলেন, “এশিয়া আমাদের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।” তিনি জানান, ইউএসএজিএম-এর অধীনে পরিচালিত ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি, রেডিও ফ্রি এশিয়াসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা হবে।
নিজের জনকূটনৈতিক প্রচার নিয়ে বলতে গিয়ে রজার্স জানান, তিনি এমন দেশগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে জনমত গঠনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমি জাপান নিয়ে অনেক পোস্ট করেছি এবং ভারত সম্পর্কেও কিছু পোস্ট করেছি।” তাঁর মতে, এই দেশগুলির মধ্যে এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে টুইটার (বর্তমানে এক্স) অত্যন্ত জনপ্রিয়।
রজার্সের মতে, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র রেডিও বা টেলিভিশনের উপর নির্ভর না করে মানুষের সংবাদ গ্রহণের নতুন অভ্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনসংযোগ কৌশল সাজানো উচিত।
তিনি বলেন, মনোনয়ন অনুমোদিত হলে ইউএসএজিএম শর্ট-ফর্ম ভিডিও, প্রবাসী সম্প্রদায়ের গ্রুপ চ্যাট, পডকাস্ট এবং অন্যান্য আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়াবে। তবে যেখানে এখনও প্রচলিত সম্প্রচার কার্যকর, সেখানে সেই ব্যবস্থাও বজায় রাখা হবে।
রজার্স আরও বলেন, যেসব দেশে স্বাধীন তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সীমিত, সেখানে মার্কিন আন্তর্জাতিক সম্প্রচার আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, আফগানিস্তান এবং কিউবাকেও সংস্থাটির কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, “আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে সংস্থাকে স্থিতিশীল করা, নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা, কার্যক্রম আধুনিকীকরণ করা এবং গবেষণা সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা, যাতে আমাদের প্রচারের পরিধি ও দর্শকসংখ্যা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাতেই নয়, তথ্যযুদ্ধ বা তথ্যপ্রচারের ক্ষেত্রেও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে আরও জোরদার করার কৌশল গ্রহণ করছে।


















