কলকাতা, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম তিন মাসেই নজিরবিহীন গতিতে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করল বিজেপি।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই দাবি করেন বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত মালব্য। তিনি গত তিন মাসে রাজ্যে শুরু হওয়া বা প্রস্তাবিত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ করেন।
অমিত মালব্যর দাবি, উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় একটি নতুন রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ২,৪০০ মেগাওয়াট নতুন তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাঁতলডিহে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট এবং বক্রেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমের (ডব্লিউবিপিডিসিএল) মাধ্যমে ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রকল্পগুলিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০,০৭০ কোটি টাকা।
এছাড়া উদ্ভাবন, উদ্যোগপতি তৈরি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন স্টার্টআপ নীতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। মালব্যর দাবি, আমুল উত্তরবঙ্গে একটি বৃহৎ আইসক্রিম উৎপাদন কারখানা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সাঁকরাইলে সংস্থার ৭০০ কোটি টাকার দুগ্ধ প্রকল্পের সম্প্রসারণ হবে। একই সঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’-র আওতায় উত্তরবঙ্গের ১০ থেকে ১২টি বন্ধ চা-বাগান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণ ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, সুন্দরবনকে বিশ্বমানের ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পুরুলিয়ায় ৪,৫০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং ঝাড়গ্রামে ১,০০০ একর জায়গায় টাইগার সাফারি প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে অমিত মালব্য বলেন, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো, শিল্প, পর্যটন ও কর্মসংস্থান— প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, “দ্রুত সিদ্ধান্ত, উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার এবং মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ডাবল ইঞ্জিন সরকার কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বেকারত্ব দূর করাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্যের ভূমি নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
–আইএএনএস



















