নয়াদিল্লি/মুম্বই/বারামতি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): প্রয়াত মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে আবেগঘন বার্তায় প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করেছেন তাঁর স্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “অজিত পাওয়ারজিকে তাঁর জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ করছি। সমাজসেবা এবং মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে তিনি শ্রদ্ধেয় ছিলেন। রাজ্যের এনডিএ সরকার তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।”
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসও এক্স-এ অজিত পাওয়ারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দূরদর্শী, সর্বসমন্বয়ী ও জনমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন।
অজিত পাওয়ারের স্ত্রী এবং বর্তমানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার আবেগঘন বার্তায় লেখেন, এত বছর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বামীর জন্মদিন পালন করলেও এবার প্রথমবার সেটি ‘জয়ন্তী’ হিসেবে পালন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজও মন এই কঠিন সত্য মেনে নিতে পারছে না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তুমি ছিলে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ সবকিছু যেন হঠাৎ শূন্য হয়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, অজিত পাওয়ারের আদর্শ, মানুষের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ এবং ভালোবাসা চিরকাল তাঁর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
বারামতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অজিত পাওয়ারের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুনেত্রা পাওয়ার। তাঁর এই বার্তা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেগের সঞ্চার হয়।
এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও ভাই অজিত পাওয়ারকে স্মরণ করে বলেন, “আজও মনে হয় দাদা আমাদের মধ্যেই রয়েছেন। কাগজে-কলমে আজ তাঁর জয়ন্তী হলেও, আমাদের কাছে আজও এটি তাঁর জন্মদিন।” তিনি বলেন, অজিত পাওয়ারের স্নেহ, নেতৃত্ব ও অভিভাবকসুলভ উপস্থিতির অভাব আজও গভীরভাবে অনুভূত হয়।
উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে বলেন, “আজকের দিনটি এক চোখে আনন্দ, অন্য চোখে অশ্রু নিয়ে এসেছে। অজিতদাদার শূন্যস্থান কেউ পূরণ করতে পারবে না। তাঁর স্বপ্নের সমৃদ্ধ মহারাষ্ট্র গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য।” প্রশাসনিক দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, কৃষি, অর্থনীতি ও সমবায় ক্ষেত্র সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানেরও প্রশংসা করেন শিন্ডে।
এদিকে, এনসিপি ২২ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘জনসেবা সপ্তাহ’ পালনের ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ, রক্তদান শিবির, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি কর্মশালা, যুব নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, কৃষি, সমবায়, অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, পরিকাঠামো ও সমাজকল্যাণে অজিত পাওয়ারের অবদানকে স্মরণ করেই এই জনসেবামূলক কর্মসূচিগুলি গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহিল্যানগরের দেওলালি প্রভারায় জন্মগ্রহণ করেন অজিত পাওয়ার। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০২৬ সালে তাঁর প্রয়াণের পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়।
























