আগরতলা, ৪ জুলাই: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের আম চাষ করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন ত্রিপুরার ধলাই জেলার এক প্রগতিশীল কৃষক। তাঁর এই সাফল্য এখন জেলার অন্যান্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ধলাই জেলার আমবাসা ব্লকের শিকারিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা থাইতাক রিয়াং প্রায় চার বছর আগে বাণিজ্যিকভাবে আমের বাগান গড়ে তোলেন। শুরুতে তিনি প্রায় ১,৫০০টি উন্নত জাতের আমের চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে মিয়াজাকি, বানানা ম্যাঙ্গো এবং অ্যাপল ম্যাঙ্গোর মতো উচ্চমূল্যের জাত।
২০২৫ সালে আম বিক্রি করে তিনি প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন। চলতি বছরে ইতোমধ্যেই তাঁর বাগান থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম সংগ্রহ বাকি রয়েছে। মরশুম শেষ হওয়ার আগেই মোট বিক্রি ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছাবে বলে তাঁর আশা।
থাইতাক রিয়াংয়ের এই সাফল্যের পর শিকারিবাড়ি ও আশপাশের এলাকার বহু কৃষক বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সম্প্রতি এলাকায় কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা তাঁর বাগান পরিদর্শন করেন। এক আধিকারিক জানান, গন্ডাছড়া, লেম্বুচড়া ও পেচারথলের আমবাগান পরিচিত হলেও শিকারিবাড়ির এই বিশাল বাগান এতদিন অনেকটাই অজানাই ছিল।
প্রায় ৪৪ কানি জমির ওপর বিস্তৃত এই বাগানে বর্তমানে প্রায় ২,০০০টি আমগাছ রয়েছে। গত দুই বছর ধরে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিদর্শনের দিনই একটি ট্রাকভর্তি আম বাইরে পাঠানো হয় এবং সেদিনই প্রায় ২ লক্ষ টাকার আম বিক্রি হয়েছে বলে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। চলমান উৎপাদন ও বিক্রির ধারা বজায় থাকলে এ বছর বাগানটির মোট বিক্রি কয়েক লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আম চাষের পাশাপাশি থাইতাক রিয়াং বাগানে প্রায় ৫০০টি কলাগাছও রোপণ করেছেন। তিনি জানান, শুরুতে নিজ উদ্যোগে চারা কিনে বাগান তৈরি করেন। পরে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সীমিত সহায়তা পেলেও বাগানের মূল অবকাঠামো ইতোমধ্যেই গড়ে উঠেছিল।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইতাক রিয়াংয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ত্রিপুরায় উচ্চমূল্যের ফল চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত বাণিজ্যিক উদ্যানপালনের মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।
























