কলহাপুর, ২০ জুন (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ শনিবার কংগ্রেস ও শিবসেনা (ইউবিটি)-প্রধান উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্কে পরিণত করেই তারা রাজনৈতিকভাবে টিকে রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের কলহাপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “ভারত কোনও ধর্মশালা নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের নিরাপত্তার প্রতিটি দিক সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে বিজেপি এবং এনডিএ-র বিস্তার সোমনাথ থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এবং দেশের সর্বত্র ঘটেছে।
অমিত শাহ বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন তুলতেন, বিজেপি দেশের সর্বত্র পৌঁছলেও পশ্চিমবঙ্গের কী হবে? কিন্তু গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বিজেপিকে আশীর্বাদ ও সমর্থন দিয়েছেন। বাংলার মানুষের এই সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপি তাঁদের কাছে ঋণী।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, শুধু বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধই করা হবে না, প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে একে একে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই ১২ বছর ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের সময়, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের সময় এবং বিশ্বে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধির সময় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি দাবি করেন, মোদির নেতৃত্বে গ্রামীণ ও শহর উন্নয়ন, সমবায় ও দুগ্ধ খাতের শক্তিশালীকরণ, উৎপাদন শিল্পে প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ প্রকল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত নতুন দিশা পেয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, “এক সময় যেসব কাজ অসম্ভব বলে মনে করা হত, প্রধানমন্ত্রী মোদি সেগুলিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। অনেকেই বলতেন, তাঁদের জীবদ্দশায় রামমন্দির নির্মাণ সম্ভব নয়। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার গঠনের পর আজ অযোধ্যায় ভগবান রামের বিশাল মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কাশী বিশ্বনাথ করিডর নির্মিত হয়েছে, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধামের পুনর্গঠন হয়েছে, সোমনাথ মন্দিরের উন্নয়ন চলছে, মা কামাখ্যার করিডর নির্মাণাধীন এবং এখন অম্বাবাই করিডরের কাজও শুরু হয়েছে।”
শাহের দাবি, ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ মন্ত্রকে সামনে রেখে সারা দেশে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ঘটছে। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে সমস্ত জ্যোতির্লিঙ্গ ও শক্তিপীঠের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়।”



















