নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাঞ্জাবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলিতে খালিস্তানপন্থী সমর্থকদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, খালিস্তানপন্থী আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার আগের প্রচেষ্টাগুলি ব্যর্থ হওয়ার পর এবার নতুন কৌশল নিয়েছে আইএসআই।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে যেভাবে আইএসআই মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলিতে নিজেদের ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (ওজিডব্লিউ) ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল, পাঞ্জাবেও সেই একই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতর থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা।
সূত্রের দাবি, পাঞ্জাবে এমন ব্যক্তিদের খোঁজা হচ্ছে, যাঁরা খালিস্তানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বা নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, এই কৌশলের লক্ষ্য হল রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে খালিস্তানপন্থী মতাদর্শকে ধীরে ধীরে জায়গা করে দেওয়া।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। অতীতে বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার ঘটনা ঘটলেও পাঞ্জাবে সেই কার্যকলাপ ধারাবাহিকতা পায়নি। ফলে আইএসআই এবার কৌশল বদলে মূলধারার রাজনীতির ভিতরে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দাদের মতে, এই পরিকল্পনা সফল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে খালিস্তানপন্থী মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করতে পারেন। এতে আন্দোলনটি মূলধারার রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, ভারত ছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন এবং বিশেষ করে কানাডায় খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নজরদারি ও কড়াকড়ি বেড়েছে। এর ফলে এই সংগঠনগুলির উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা নতুন উপায়ে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক দলগুলিকে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তাঁদের আশঙ্কা, কিছু ব্যক্তি প্রথমদিকে খালিস্তানপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে কোনও প্রকাশ্য সম্পর্ক দেখাবেন না, কিন্তু নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক দলের ভিতর থেকে সেই মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করতে পারেন।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই ধরনের অনুপ্রবেশ তৃণমূল স্তর থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব—যে কোনও স্তরেই ঘটতে পারে। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের যে কোনও স্তরে এ ধরনের অনুপ্রবেশ নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে খালিস্তানপন্থী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।



















