পাটনা, ১৬ জুন (আইএএনএস): জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’-এর দুই নিরাপত্তারক্ষীর জামিনের আবেদন নিয়ে মঙ্গলবার শুনানি হলেও তাৎক্ষণিক কোনও স্বস্তি দেয়নি পাটনা সিভিল কোর্ট।
পাটনার মুসাল্লাহপুর হাট এলাকায় অবস্থিত খান গ্লোবাল স্টাডিজ-কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিক্ষোভ, হামলা এবং গুলিচালনার ঘটনায় এই মামলা দায়ের হয়েছিল।
মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত তদন্ত-সংক্রান্ত হালনাগাদ কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ জুন।
একই দিনে ফৈজল খানের মামলাতেও পৃথক শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চলমান মামলায় ২০ জুন পর্যন্ত তিনি গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন।
এদিকে, সূত্রের খবর, রোশন আনন্দ-এর সহযোগীরাও শীঘ্রই এই মামলায় জামিনের আবেদন জানাতে পারেন।
মামলাটি আরও জটিল আকার নিয়েছে, কারণ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সোমবার রাতে রোশন আনন্দ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে ফৈজল খান এবং এক কোল্ড স্টোরেজ মালিক তাঁর ভাই রাজকুমার যাদব-কে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
উল্লেখ্য, নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেল কক্ষে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে প্রিন্স যাদবের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি বর্তমানে নেপাল পুলিশের তদন্তাধীন।
সোমবার গভীর রাতে সাহারসা জেলার নিজ গ্রামে প্রিন্স যাদবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষযাত্রায় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা এখনও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে চলেছেন। পরিবারের দাবি, ছেলের মৃত্যুর পর প্রিন্স যাদবের বাবা-মা গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে, সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে নেপাল পুলিশ প্রিন্স যাদবের পাঁচ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সমন্বয় করতে পাটনা পুলিশের একটি দলও নেপালে যেতে পারে।
এদিকে ঘটনাটি রাজনৈতিক রূপও নিতে শুরু করেছে। বিহার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব প্রিন্স যাদবের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) তদন্তের দাবি তুলেছেন।
তিনি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-কে চিঠি লিখে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মৃত্যুর পরিস্থিতি অত্যন্ত রহস্যজনক এবং নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
























