নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুন: রাজধানীর বাধারঘাট এলাকার এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, কোর্ট ম্যারেজের পর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং মানসিক অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, বাধারঘাট শ্রীপল্লী এলাকার বাসিন্দা সুমন দেবের কন্যা প্রীয়া দেব (২২) ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর রানীবাজার এলাকার বাসিন্দা পরোব দে-র সঙ্গে আইনত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের সম্পর্কের পর উভয় পরিবারের সম্মতিতেই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরোব দে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।
পরিবারের দাবি, বিয়ের পর কিছুদিনের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ ও অশান্তি লেগে থাকত। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, প্রীয়াকে বিভিন্ন সময় মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হতো এবং এই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে।
শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় তারা জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর তাকিয়ে প্রীয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে অরুন্ধতীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, প্রীয়া দেব জাতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (এনআইটি)-তে এমবিএ বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।



















