ঢাকা, ১২ জুন (আইএএনএস) : বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বের বৃহত্তম ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও চাপের মুখেই নির্মাণকাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তাসলিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে লক্ষাধিক মসজিদ থাকা এবং নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হওয়ার পরও একটি রাম মন্দির বা রামের মূর্তি নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন।
তসলিমা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, পলাশবাড়ীতে নির্মীয়মাণ রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে যে ধরনের হুমকি, উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শুধুমাত্র মতভেদের কারণে অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ধ্বংস করার অধিকার রাখে না।
তসলিমা নাসরিন উল্লেখ করেন, পলাশবাড়ী এলাকায় অতীতে হিন্দু মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই পরিস্থিতি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও ওমানের মতো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও বড় বড় হিন্দু মন্দির রয়েছে। সেখানে মন্দিরের অস্তিত্বকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয় না। তাহলে বাংলাদেশে একটি মন্দির নির্মাণকে কেন সংকট হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশি সংবাদপত্র ‘ব্লিটজ’-এর সম্পাদক-ও নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় জিহাদি ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের পরই সনাতন কমপ্লেক্স প্রকল্পের কার্যক্রম এবং রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি ভবিষ্যতে পুনরায় শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



















