নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): শিখ সম্প্রদায়ের জন্য সরকারের বর্তমান জনসংযোগ ও কল্যাণমূলক উদ্যোগে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে বলে সোমবার রাজ্যসভায় জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে রিজিজু জানান, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন (এনসিএম) ‘আউটরিচ টু দ্য শিখ কমিউনিটি’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল শিখ সম্প্রদায়ের সামনে থাকা বিশেষ চ্যালেঞ্জগুলি বোঝা এবং বর্তমান জনসংযোগমূলক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর কৌশল প্রস্তাব করা।
তিনি বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিখ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সমীক্ষা করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কেন্দ্রের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিজিজু জানান, সম্প্রতি শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হরজিৎ সিং গ্রেওয়ালকে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর মন্ত্রক ইতিবাচক পদক্ষেপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বিরাসত কা সম্বর্ধন (পিএম বিকাশ), প্রধানমন্ত্রী জন বিকাশ কর্মসূচি (পিএমজেভিকে) এবং ন্যাশনাল মাইনরিটিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (এনএমডিএফসি) মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মতো একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কিরেন রিজিজু আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন নিয়মিতভাবে ‘সর্বধর্ম সংলাপ’ (সর্ব ধর্ম সম্বাদ) বৈঠকের আয়োজন করে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে।
এছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করতে ধর্মীয় নেতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে নিয়মিত ‘সর্বধর্ম সংলাপ’ ও ‘সর্বধর্ম সদ্ভাব’ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে ধরা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা মিলছে।



















