নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই: রাজ্যে বিরোধীদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও বিভিন্ন অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করার অভিযোগ তুলল বিজেপি। আজ আগরতলায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন বিধায়ক রণজিৎ দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা এবং রাজ্য মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই সম্প্রতি প্রয়াত প্রাক্তন ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন রণজিৎ দাস। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ও সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্যের জবাবে রণজিৎ দাস বলেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ডিজিপি অনুরাগের মৃত্যুকে নিয়ে বিরোধীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মানুষকে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রয়েছে বলেই বিরোধীরা অবাধে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করতে পারছে। বিলোনিয়ার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে এক আইপিএস কর্মকর্তার প্রতি বিরোধী নেতার অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল। তিনি নিজেই এধরনের আচরণ করে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তিনি বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ করেন।
রণজিৎ দাস আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপরাধের ঘটনাগুলি মানুষের মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আদা কেলেঙ্কারি, রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারি, বিশালগড় ব্লক সংক্রান্ত অনিয়ম, এক মন্ত্রীর হত্যাকাণ্ড এবং এক এসডিএমের হত্যার মতো ঘটনাগুলির উল্লেখ করে বলেন, এগুলি সেই সময়ের শাসনব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
সুদীপ রায় বর্মণকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রণজিৎ দাস বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, সুদীপ রায় বর্মণ বারবার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন। কংগ্রেস আমলে সিপিআই(এম) কর্মীদের হত্যা, আবার সিপিআই(এম)-এর শাসনামলেও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দুই দলকেই কটাক্ষ করেন।
প্রয়াত আইপিএস কর্মকর্তা অনুরাগ ধ্যানকরের প্রসঙ্গে রণজিৎ দাস বলেন, কয়েক দিন আগেও মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি বহুল আলোচিত ঘটনাও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা।
মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলকে মারধরের অভিযোগ এবং একটি ইটভাটা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মতো বিষয় নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনাকে ভুলে গিয়ে বিরোধীরা সমাজে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে রণজিৎ দাস বলেন, রাজ্য সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। বিরোধীদের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বদলে তথ্যভিত্তিক রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।



















