কাঠমান্ডু, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): ইতিহাস গড়ে দেশের প্রথম সড়ক টানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করল নেপাল। সোমবার কাঠমান্ডু উপত্যকার পশ্চিম প্রবেশদ্বারে পৃথ্বী মহাসড়কের ২.৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নাগঢুঙ্গা-সিসনেরি টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘টানেল সড়ক যুগে’ প্রবেশ করল।
সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে নেপালের অবকাঠামো উন্নয়নমন্ত্রী সুনীল লামসাল টানেলটির উদ্বোধন করেন। জাপান সরকারের স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তায় নির্মিত এই টানেলের ফলে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত কমে যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এতদিন নাগঢুঙ্গা এলাকার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়েই কাঠমান্ডুতে প্রবেশ করতে হত, ফলে যাত্রায় অনেক বেশি সময় লাগত।
উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুনীল লামসাল বলেন, “এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও এমন টানেল নির্মাণ করা হবে। আজ থেকে নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে টানেল যুগে প্রবেশ করল।”
বর্তমানে পশ্চিম নেপালের পাল্পা জেলায় সিদ্ধবাবা টানেল নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও প্রায় দুই ডজন সড়ক টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাচ্ছে নেপালের সড়ক বিভাগ।
অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মায়েদা তোরু বলেন, এই প্রকল্প জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নেপালি প্রকৌশলী ও কর্মীদের নিষ্ঠার এক অনন্য সমন্বয়।
তিনি জানান, প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও শ্রমিকই নেপালের ছিলেন। জাপানি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নিরাপত্তা এবং গুণমান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা নেপালের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একইসঙ্গে টানেল পরিকল্পনা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নেপালের সক্ষমতা বাড়াতে জাপান ও নেপাল নতুন প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কর্মসূচি শুরু করবে বলেও ঘোষণা করেন জাপানি রাষ্ট্রদূত।
যদিও সোমবার টানেলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে, প্রথম ১০ দিন শুধুমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির মতো জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য যানবাহনের জন্য টানেলটি খুলে দেওয়া হবে। তিন মাসের পরীক্ষামূলক পরিচালনার পর সব ধরনের যানবাহনের জন্য নিয়মিতভাবে টানেলটি চালু করা হবে।
আগামী পাঁচ বছর টানেলটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, যান নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিষেবা এবং টোল সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করবে চীনের ইউসিন এবং নেপালের এআরটি-র যৌথ উদ্যোগ।
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ৪২ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারি, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পানীয় জল-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধের কারণে প্রকল্পটি শেষ হতে প্রায় সাত বছর সময় লেগেছে।
প্রকল্প দফতরের তথ্য অনুযায়ী, টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন নেপালি রুপি।


















