নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই: মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা-এর ত্রিপুরা রাজ্য শাখা। এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনিযুক্ত যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি অরিন্দম দেব অভিযোগ করেন, ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছেন।
অরিন্দম দেবের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে কংগ্রেস কর্মীরা অনুমতি ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত অধিকার হলেও কারও ব্যক্তিগত বাসভবনে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) যৌথভাবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অতীতেও তিনি একাধিকবার পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।
যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি ভিকি প্রসাদ বলেন, ত্রিপুরার মানুষ বারবার কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিও রাজ্যের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ইতোমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে।
স্মারকলিপিতে বিক্ষোভে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে, দ্রুত গ্রেপ্তারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিজেওয়াইএম নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর থাকবে।



















