গুয়াহাটি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস) : ভারত-নেপাল রেল সংযোগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো ৪০টি ওয়াগন নিয়ে ক্যানোলা পণ্যবাহী একটি বাণিজ্যিক কনটেনার মালবাহী ট্রেন সরাসরি কলকাতা বন্দর থেকে নেপালের বিরাটনগর কাস্টমস ইয়ার্ডে সফলভাবে পৌঁছেছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা সোমবার জানান, এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে সংশোধিত ভারত-নেপাল রেল ট্রানজিট প্রোটোকল কার্যকর হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত-পার বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি জানান, সংশোধিত ট্রানজিট ব্যবস্থার আওতায় কলকাতা বন্দর থেকে বিরাটনগর পর্যন্ত কোনও সীমান্ত ট্রান্সশিপমেন্ট ছাড়াই সরাসরি রেলপথে বৃহৎ পরিমাণ পণ্য পরিবহণ সম্ভব হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহণের সময়, লজিস্টিক ব্যয় এবং মাল খালাসের ঝামেলা কমবে। পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শর্মা বলেন, এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বিহারের জোগবনি (ভারত) থেকে নেপালের বিরাটনগর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ চালুর মাধ্যমে। ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন নেপালের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এই রেল সংযোগের উদ্বোধন করেছিলেন।
এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে সংশোধিত ‘লেটার অব এক্সচেঞ্জ’-এ স্বাক্ষরের পর নেপালের উদ্দেশ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক রেলপথে পণ্য পরিবহণ বাস্তবে রূপ নেয়।
এনএফআরের দাবি, এই মাইলফলক আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ সম্প্রসারণে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ। এর ফলে ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে, লজিস্টিক পরিষেবা উন্নত হবে এবং আধুনিক রেল পরিকাঠামোর মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে ভারতের প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় হবে।
শর্মা আরও জানান, ভবিষ্যতেও সীমান্ত-পার রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, মালবাহী পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভারত-নেপাল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে এনএফআর কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও গ্রাহকমুখী রেল পরিষেবা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে, এনএফআরের তত্ত্বাবধানে নির্মীয়মাণ আগরতলা-আখাউড়া (বাংলাদেশ) রেল সংযোগ প্রকল্পও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















