চণ্ডীগড়, ১১ জুন (আইএএনএস): জর্জিয়া থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বৈঙ্কেত গর্গকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হরিয়ানা পুলিশের জন্য একটি বড় সাফল্য বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বৃহস্পতিবার এসটিএফ জানায়, এটি জর্জিয়া থেকে ভারতে প্রথম প্রত্যর্পণের ঘটনা এবং চলতি বছরে তাদের ১০ম সফল প্রত্যর্পণ বা বহিষ্কার অভিযান।
ভারত ও জর্জিয়া সরকারের সহযোগিতায় এই প্রত্যর্পণ সম্ভব হয়েছে।
অম্বালা জেলার নারায়ণগড় এলাকার বাসিন্দা বৈঙ্কেত গর্গ ৫৩ সদস্যের একটি অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিত। এসটিএফের দাবি, এই চক্র অম্বালা, যমুনানগর, কুরুক্ষেত্র, পঞ্চকুলা এবং চণ্ডীগড়ে খুন, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, সংগঠিত অপরাধ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
গর্গ একজন ঘোষিত পলাতক অপরাধী। হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়ে তার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দেশ ছাড়ার আগেই তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল।
তদন্তে জানা যায়, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরও সে তার সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধচক্র পরিচালনা করে যায়। এর ফলে খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, সংগঠিত অপরাধ এবং অস্ত্র আইনে আরও ১১টি মামলা তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়।
গর্গ গ্যাংয়ের উল্লেখযোগ্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগড়ে বহুজন সমাজ পার্টির নেতা হরবিলাস সিং রাজ্জুমাজরা-এর হত্যা এবং অম্বালা ও যমুনানগরে তোলাবাজি সংক্রান্ত একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনা।
এসটিএফের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পালিয়ে যায় গর্গ। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি সে জর্জিয়ায় পৌঁছায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, গুরগাঁওয়ের সেক্টর-৬৭-এর একটি ভুয়ো আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করে সে প্রতারণার মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিল।
গর্গকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এসটিএফ একাধিক আইনি ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল লুক আউট সার্কুলার (এলওসি), ইন্টারপোল-এর রেড কর্নার নোটিস জারি, তাকে ঘোষিত পলাতক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং আদালতের মাধ্যমে ছয়টি ওপেন-ডেটেড গ্রেফতারি পরোয়ানা সংগ্রহ।
পরে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জর্জিয়ায় তার অবস্থানের খবর পাওয়া গেলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই প্রত্যর্পণ সফল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), জর্জিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস এবং কাজাখস্তানে ভারতীয় দূতাবাস সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।



















