কোচি, ১১ জুন (আইএএনএস): খনিজ সংস্থা সিএমআরএল-এর তথাকথিত ‘মাসাপ্পাডি’ (মাসিক অর্থপ্রদান) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সামনে হাজির হচ্ছেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নের মেয়ে ভীণা থাইকান্ডি।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ভীণা ই-মেলের মাধ্যমে ইডিকে জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত দিনে তিনি হাজির হতে পারবেন না এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন তারিখ চেয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি ইডিকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি তিনি জমা দিতে প্রস্তুত। ভীণা জানিয়েছেন, তাঁর আইনজীবীরা কোচির ইডি দফতরে উপস্থিত হয়ে চাওয়া নথিপত্র জমা দেবেন।
ইডি তাঁকে নতুন তারিখ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে এবং শীঘ্রই নতুন সমন জারি করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভীণার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক (Exalogic) এবং কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল)-এর মধ্যে হওয়া আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-এর অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই ইডি তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ, সিএমআরএল বিভিন্ন সন্দেহজনক খাতে ব্যয় দেখিয়ে অর্থপ্রদান করেছে, যার মধ্যে আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, এই লেনদেনগুলির সঙ্গে অর্থপাচারের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভীণা সিএমআরএল-এর কাছ থেকে ২.৭৮ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। এছাড়া ‘এমপাওয়ার ইন্ডিয়া ক্যাপিটাল’ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার একটি ঋণও নেওয়া হয়েছিল।
এই অর্থপ্রদানের বিপরীতে প্রকৃত পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল কি না, যথাযথ বিল, চালান এবং কর-সংক্রান্ত নথি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।
ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত তীব্র হওয়ায় রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
সূত্রের খবর, ইডির সামনে হাজির হলে সম্ভাব্য আইনি প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের পরই ভীণা আরও সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে ইডির একাধিক তল্লাশি অভিযানে ২৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৮ কোটিরও বেশি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছিল। ধনলক্ষ্মী ব্যাঙ্ক এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে ভীণার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা তিনটি অ্যাকাউন্টও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সিএমআরএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস.এন. কার্থা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সংস্থার আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিককেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত আরও গভীরে প্রবেশ করায় ‘মাসাপ্পাডি’ মামলা এখন সিপিআই(এম) নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহির দাবি জানিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে।
ইডি পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
— আইএএনএস


















