শিলং, ১০ জুন (আইএএনএস): সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল মেঘালয় সরকার। আগামী ছয় মাসের জন্য সরকারি অর্থে মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সরকারি আধিকারিকদের সব বিদেশ সফর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
সরকারি সূত্রের দাবি, বৃহত্তর জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকার যখন আর্থিক সংযমের নীতি গ্রহণ করছে, তখন মেঘালয় সরকারও ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং মিতব্যয়িতার পথে হাঁটছে।
কর্মকর্তাদের মতে, জনসাধারণের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন দফতরের প্রায় ৬৩ থেকে ৬৮ জন প্রতিনিধি ও আধিকারিকের অংশগ্রহণে প্রস্তাবিত আটটি বিদেশ সফর, স্টাডি ট্যুর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া কর্মসূচিগুলির মধ্যে ছিল প্রশাসনিক সংস্কার, পশুপালন উন্নয়ন, জলবায়ু-সহনশীল জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অধ্যয়ন সফর।
এই সফরগুলির জন্য যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, আমেরিকা, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বা জ্ঞান-বিনিময় থেকে সরে আসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবলমাত্র সরকারি ব্যয় বহনকারী বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ।
তাঁদের বক্তব্য, বিদেশ সফর স্থগিত থাকলেও ভার্চুয়াল বৈঠক, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কাজ অব্যাহত থাকবে।
রাজ্য সরকারের মতে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উপর কোনও প্রভাব না ফেলেই আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
তবে সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে বা বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সেই ধরনের সফর বিবেচনা করা হবে।
মেঘালয় সরকার জানিয়েছে, দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ খোঁজা হবে।
























