নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুন: রক্তের কোন বিকল্প নেই। রক্তদানে রক্ত গৃহীতা যেমন উপকৃত হন রক্ত দাতাও শারীরিক ও মানসিক ভাবে উপকৃত হন। দেশের অন্যান্য রাজ্যের থেকে রক্তদান কর্মসূচিতে ত্রিপুরা অনেকটা এগিয়ে। রক্তদান কর্মসূচি রাজ্যে আজ একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। রক্তদান কর্মসূচি সমাজের কল্যাণে আরও বেশি করে আয়োজন করতে হবে। আজ আগরতলার রামনগরস্থিত রামকৃষ্ণ ক্লাব আয়োজিত রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ৬৫ বছরের যে কেউ রক্তদান করতে পারেন। রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসংখ্যার নিরিখে রাজ্যে চল্লিশ হাজার ইউনিট রক্ত মজুত থাকা দরকার ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে। রাজ্যে তার চেয়ে বেশি রক্ত মজুত রয়েছে। অতীতে রাজ্যে রক্ত কণিকা আলাদা করার কোন ইউনিট ছিলনা। বর্তমানে হাসপাতালগুলিতে সেপারেশন্যাল ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে পর্যাপ্ত ব্লাড ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজ্যের ক্লাবগুলিতে সুস্থ পরিবেশ ছিলনা। বর্তমানে ক্লাবগুলি রক্তদান সহ নানা সমাজসেবামূলক কাজে বেশি করে যুক্ত হচ্ছে, যা সমাজের জন্য ভালো লক্ষণ। বিশেষ করে আজ মহিলাদের দ্বারা ক্লাব এবং অনেক সামাজিক সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। মহিলারাও এসবের মাধ্যমে নানা সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসছেন, যা অতীতে কল্পনা করা যেতো না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়ণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী রক্তদাতাদের সাথে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মুখ্যমন্ত্রী এই রক্তদান শিবিরে আগত বিশেষভাবে সক্ষম এক মহিলা রক্তদাতার প্রশংসা করেন এবং বলেন, রাজ্যের জন্য এটা গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, রক্তদান রাজ্যে আজ একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ ক্লাবের এডভাইজারি কমিটির সম্পাদক নান্টু ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ ক্লাবের সভাপতি নির্মল বর্ধন ও সম্পাদক সঞ্জয় মজুমদার প্রমুখ।



















