আগরতলা, ১৯ জুলাই: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দ্রুত নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ ইতিমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। বিচারপতি টি. অমরনাথ গৌড়ের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
আদালত জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাগারে শুধুমাত্র হেফাজতে রাখা হবে। নির্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, উনকোটি ও ধলাই জেলার সেশনস কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি ফৌজদারি আপিলের শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আপিলকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আটজন নারী-পুরুষ এবং পৃথক একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত আরও এক বাংলাদেশি মহিলা।
তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ এবং পাসপোর্ট (এন্ট্রি ইনটু ইন্ডিয়া) অ্যাক্ট, ১৯২০ ও সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে মামলা হয়েছিল। নিম্ন আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল।
শুনানির সময় পাবলিক প্রসিকিউটর রাজু দত্ত আদালতকে জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনও আপত্তি নেই। তিনি আদালতের কাছে যুক্তি দেন, দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখার পরিবর্তে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই অধিক যুক্তিযুক্ত।
পাবলিক প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য বিবেচনা করে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, দোষী সাব্যস্ত সকলেই প্রথমবারের অপরাধী। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পরবর্তীতে আদালত সকলের সাজা ইতিমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় পর্যন্ত সীমিত রেখে রাজ্য সরকারকে আইন মেনে দ্রুত তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়।



















