নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুন: আগরতলার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ৮ নম্বর টাউন বড়দোয়ালি এলাকার অন্তর্গত নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, শ্রমিক শোষণ, নেশাজাতীয় কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএমএসের কর্মীরা বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল ৮টা থেকে কিছু সময়ের জন্য বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এর জেরেই একদল যুবক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কয়েকজন শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা আহত হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে।
আহত শ্রমিক নেতা লিটন কর অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা উপেক্ষিত হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করা হলেও তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এর সঙ্গে ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিক জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি। লিটন কর আর বলেন, এলাকায় তোল্লাবাজি সহ বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজে জড়িত এই কাউন্সিলর। তাঁর দাবি, কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিক ছাপ্পা ভোটে জয়ী হয়েছেন। লিটন কর ও তার স্ত্রী নিজে তাকে ৫ টা ছাপ্পা ভোট দিয়েছেন। ক্যামেরার সামনে এভাবেই হাটে হাড়ি ভাঙলেন ওই শ্রমিক নেতা। এখন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদৌ কোনো তদন্ত করা হবে ? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নাকি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, সেটাই দেখার।
এদিনের এই সংঘর্ষের ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর বক্তব্য, বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই পরিস্থিতি থেকেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
কাউন্সিলর আরও বলেন, যারা অভিযোগ করছেন তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁর বা তাঁর সমর্থকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
খবর লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে এদিন সন্ধ্যায় নাগেরজলায় এই সংঘর্ষ কান্ডে মূল অভিযুক্ত কর্পোরেটর অভিজিৎ মল্লিক এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে পশ্চিম ত্রিপুরা পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রধান করে বিএমএস কর্মীরা। এমনকি আগামীকাল নাগেরজলা স্ট্যান্ডে কর্মবিরতির ঘোষণা করেছে শ্রমিক নেতারা।



















